কানাডায় নববর্ষের উৎসব সারা বৈশাখ জুড়ে

প্রবাসী সাকিবুর রহমান খান

http://thesangbad.net/images/2019/April/21Apr19/news/1.jpg

বাঙালীর সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশীরা নানা ব্যস্ততার মধ্যেও এই দিবস পালন করতে যথাযথ মর্যাদায় ও আন্তরিকায়। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে কানাডা। ঠান্ডার দেশে কানাডা প্রবাসীদের বাঙালীর নববর্ষ উদযাপন নিয়ে লিখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও কানাডা প্রবাসী সাকিবুর রহমান খান।

বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মাইল দূরে কানাডা অবস্থিত হলেও বাংলা নববর্ষের দোল লেগেছে এখানে। কানাডার হিম শীতল অবহাওয়াতে পালন হয়েছে বৈশাখ।

বিদেশের মাটিতে বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করার চেস্টা । এ দেশের ক্যালেন্ডারে কিংবা আবহাওয়াতে বৈশাখের কোন উপস্থিতি না থাকলেও ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয় বৈশাখ। এ বছরও ব্যতিক্রম নয়।

http://thesangbad.net/images/2019/April/21Apr19/news/2.jpg

নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নিয়েছে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা। মন্ট্রিলে ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বৈশাখী সন্ধ্যা। এখানে বাংলাদেশ থেকে আসছেন আজিজুল হাকিম, জিনাত হাকিম, রিচি সোলায়মানসহ বেশ কয়েকজন তারকা।

টরেন্টোতে হবে বাংলাদেশ ফেস্টিভাল ২০ এপ্রিল। এছাড়া ম্যানিটোবায় বৈশাখের অনুষ্ঠান হবে ২৮ এপ্রিল।

বৈশাখ উপলক্ষে কোন সরকারি ছুটি যেহুতু কানাডাতে নেই সেহেতু এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহের শনি - রবি থেকে শুরু হয়ে সারা মাসের শনি - রবিবার বৈশাখের প্রোগ্রাম চলছে।

কানাডার বৈশাখ উদযাপন শুধুমাত্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন বাংলাদেশি দোকানগুলি বৈশাখ নিয়ে জমজমাট ব্যবসা হয়েছে। দোকানগুলি করেছে হালখাতা অনুষ্ঠান। গ্রোসারী দোকানগুলি বিক্রি করেছে ইলিশ মাছ, শুঁটকি আচার মাছসহ বিভিন্ন বাংলাদেশের ট্রেডিশনাল পন্য। বাংলাদেশি গ্রোসারী গুলি বাংলাদেশ থেকে এনেছে প্রচুর পরিমানের ইলিশ।

http://thesangbad.net/images/2019/April/21Apr19/news/3.jpg

প্রবাসী সাকিবুর রহমান খান

বড় বড় শহরগুলিতে কানাডা - বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বিভিন্ন জেলা সমিতি, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাখাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলি নানা আয়োজনের বৈশাখী ডালি সাজিয়েছিল। আবার বৈশাখ কে সামনে রেখে কয়েকটি পরিবার মিলে ওয়ান পার্টি ডিশ ( পটলাক ) এর আয়োজন করেছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে নিজেদের বাড়িকে তারা সাজিয়েছে বাংলাদেশের মতন করে। কেউ নিজ বাসায় বানিয়েছেন হাত পাখা, ঘুড়ি, মুখোশ বাদ যায়নি বাংলাদেশের রিকশা। রিকশার পিছনে আলপনা করতে দেখা গেছে।

কানাডার বাংলাদেশি সবচেয়ে বেশি বাস করে টরোন্ট, মন্ট্রিল, ভ্যানকুভার, ক্যালগেরি, অ্যাডমন্টন, অটোয়া, উইনিপেগ, কিউবেক সিটিসহ বিভিন্ন শহরগুলিতে। এ সব শহরে বাংলাদেশিরা ব্যাপকভাবে পালন করেছে বৈশাখকে।

এ দোকানগুলির মাঝে তাজমহল ফুডস, সরকার ফুডস, মারহাবা সুপার মার্কেট, শাহজালাল গ্রোসারি, বেঙ্গল গ্রোসারি, ঢাকা কনভিনিয়েন্ট সেন্টার, সুরমা গ্রোসারি, বাংলা টাউন সুপার মার্কেট, বারাক সুপার মার্কেট অন্যতম। দোকানগুলি কানাডা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাগুলিতে তারা আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।

সরকার ফুডস প্রতিটি ৫০০ গ্রামের ৩ টি ইলিশ মাছের দামের প্যাকেজ দাম রাখছে ২৪ ডলার ৯৯ সেন্টস। এসব দোকানগুলিতে বড় একটি ইলিশ মাছের দাম রাখা হচ্ছে ২৫ ডলার। অনেক দোকান থাকার কারনে ক্রেতারা যাচাই - বাচাই করে কেনার সুযোগ পেয়েছে।

সারা কানাডায় বাংলাদেশি মালাকাধীন শতাধিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তারাও বসে ছিলনা। অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে ছিল ১৪ এপ্রিল পান্তা - ইলিশের ব্যবস্থা। রেস্টুরেন্ট এবং আইটেমভেদে দামের কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও এসব দোকানে ১০/১২ ডলারে পান্তা - ইলিশের ব্যবস্থা ছিল। জমজমাট অনুষ্ঠান হয় টরেন্টোর বাঙালি পাড়া বলে খ্যাত ড্যানফোর্থের ঘরোয়া সংলগ্ন প্রাঙ্গণে। এখান থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা প্রাঙ্গনকে বিভিন্ন রং দিয়ে আল্পনা করে সাজিয়ে দেয়া হয়। কয়েকটি দেয়ালে আঁকা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পট চিত্র। বৃষ্টি ভেজা ১৪ এপ্রিল সকালে শত শত বাঙালির মাঝে অংশ নেন অন্যান্যর মাঝে অংশ নেন টরেন্টোর মেয়র জন টরি, ফেডারেল মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার, এমপি ন্যাথানিয়েল এরিস্কিন-স্মিথ, এমপিপি ডলি বেগম এবং দুই সিটি কাউন্সিলর ব্রাড ব্রাডফোর্ড ও গ্যারি ক্রোফোর্ড। বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলা।