কাশ্মীর ইস্যুতে প্রথমেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না পাকিস্তান

image

ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা সত্ত্বেও পাকিস্তান প্রথমে নিজেদের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) লাহোরে এক সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন তিনি। কাশ্মীর ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত মাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আভাস দেন, শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ‘প্রথমে ব্যবহার নয়’ নীতি পরিবর্তনের কথা ভাবছে তার দেশ। তার এমন ইঙ্গিতের জবাবেই ইমরান খান এমন মন্তব্য করেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর স্বাভাবিকভাবেই ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী’ পাকিস্তানের সঙ্গে দিন দিন সম্পর্কের আরও অবনতি হচ্ছে নয়াদিল্লির। ইসলামাবাদ ইতোমধ্যেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা কাশ্মীরিদের জন্য তাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করবে। এমনকি যুদ্ধের জন্য পাকিস্তান ও দেশটির সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত মাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দিলে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ‘প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না’ বলে এখনও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ভবিষ্যতে এই প্রতিশ্রুতি রাখবে কিনা, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার লাহোরে শিখ ধর্মাবলম্বীদের এক সমাবেশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘আমরা উভয়ই পরমাণু শক্তিধর দেশ। এসব উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বিপদে পড়তে পারে বিশ্ব। আমাদের দিক থেকে কখনোই প্রথমে এটি (পরমাণু অস্ত্র) ব্যবহার করা হবে না।’

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে কাশ্মীর ইস্যু। দুই দেশই অঞ্চলটির অংশ বিশেষ শাসন করলেও পুরো অংশ নিজেদের বলে দাবি করে। এখনও পর্যন্ত এ দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সংগঠিত তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটিই হয়েছে কাশ্মীর ইস্যুতে। গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তান। বহিষ্কার করা হয় ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় দূতকে। তবে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করে আসছে ভারত।