কাশ্মীর ইস্যুতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

image

কাশ্মীর ইস্যুতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০ আগস্ট মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কাশ্মীরের মানুষজন ভালো নেই। সেখানে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। এজন্য ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব মেটাতে ভূমিকা রাখতে চায়।’ এদিকে, আগামী ২৪ থেকে ২৬ আগস্ট ফ্রান্সের বিয়ারিৎসে ৪৫তম জি-সেভেন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ভারতের নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার একদিন পর ট্রাম্প কাশ্মীরে উত্তেজনা নিরসনে সহায়তা ও চেষ্টা করার এ প্রস্তাব দেন। হোয়াইট হাউজে মঙ্গলবার ট্রাম্প আরও বলেন, কাশ্মীর খুবই জটিল একটি জায়গা। সেখানে হিন্দু আছে, মুসলমান আছে। বলব না, তারা একসঙ্গে খুব ভালো আছে। তবে, মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দুটি দেশ (ভারত-পাকিস্তান) দীর্ঘদিন ধরে ভালো নেই। সত্যি বলতে, এটা রীতিমতো বিস্ফোরক পরিস্থিতি। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দু’বার ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একবার ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর ১৯ আগস্ট সোমবার টুইটার বার্তায় তিনি কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থাকে একটি কঠিন পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মাসখানেক আগেও ইমরান খানকে সঙ্গে বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তখন তার ওই প্রস্তাব নিয়ে ভারতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। চলতি সপ্তাহেই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি৭ সম্মেলনে মোদির সঙ্গে দেখা হবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সেখানে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ফের আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে ভয়ংকর সংকট রয়েছে। তবে, মধ্যস্থতা বা যে কোন কিছু করার ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দু’জনের (মোদি ও ইমরান) সঙ্গেই দারুণ সম্পর্ক, কিন্তু এ মুহূর্তে তারা আর বন্ধু নেই। পরিস্থিতি জটিল। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে এর আগেও মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ট্রাম্প দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি তাকে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও, সেকথা অস্বীকার করে ভারত। গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। বন্ধ হয়ে গেছে দু’দেশের মধ্যে সব ধরনের বাণিজ্য, কূটনীতি, যান চলাচল। গত সপ্তাহে কাশ্মীর সীমান্তে দু’বার সংঘর্ষে ভারতের এক ও পাকিস্তানের তিন সেনা নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান আরও পাঁচ ভারতীয় সেনাকে হত্যার দাবি করলেও তা অস্বীকার করেছে দেশটি। এর মধ্যেই গত শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ইমরান খানের কাছে ফোন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র ৩ দিন পরেই (১৯ আগস্ট) প্রথমে নরেন্দ্র মোদি ও পরে ফের ইমরান খানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। এ সময় কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দুই দেশকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে পাকিস্তান

কাশ্মীর সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি এ তথ্য জানান। পাকিস্তানভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল অ্যারি নিউজের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার কোরেশি বলেন, আমরা কাশ্মীর ইস্যুটি আন্তর্জাতিক আদালতে দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আইনগতভাবে সব দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানান তিনি। যদিও ভারত এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদে পাকিস্তানের দিকে থেকে সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ পদক্ষেপের কথা জানানো হলো। এর আগে একই ইস্যুতে দেশটি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও পরিবহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। এ ছাড়া এটি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরও দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তানে দুই দেশই কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে। বাস্তবে এটি কারও দখলেই পুরোপুরি নেই। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধও হয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ দুই দেশকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কাশ্মীর সংকট সমাধানের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এ আহ্বান জানান।