কাশ্মীরে আরোপিত বিধিনিষেধে ‘গভীর উদ্বেগ’ জাতিসংঘের

image

রাষ্ট্রপতির আদেশে ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বজেপি) সরকার। গত সোমবার (৫ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। এর জেরে ১৯৪৭ সাল থেকে বজায় থাকা অঞ্চলটির বিশেষ মর্যাদাই শুধু নয় জম্মু-কাশ্মীর হারাতে চলেছে তার রাজ্যের মানও। এ বিশেষ মর্যাদা বাতিল কার্যকর করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরে যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তাতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। একইসঙ্গে এমন পদক্ষেপ সেখানকার ‘মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাবে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তির্জাতিক এ সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের (ওএইচসিএইচআর) মুখপাত্র রুপার্ট কলভিলে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কাশ্মীরে টেলিযোগাযোগ বন্ধ, নেতাদের নির্বিচারে আটক ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞায় আপত্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন সংস্থাটির এক মুখপাত্র। সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংসদে কাশ্মীরের জন্য নির্ধারিত সংবিধানের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের মধ্যেই রোববার থেকে ওই উপত্যকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দেশটির অন্য সব অঞ্চলে থাকা কাশ্মীরিরাও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানা যাচ্ছে। ১৪৪ ধারা জারির করায় কারফিউ বলবৎ থাকায় স্থানীয় ৮০ লাখ বাসিন্দা কার্যত বন্দীদশায় রয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বন্দী রাখা হয়েছে, যাদের মুক্তি পাওয়ার কোন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘের মুখপাত্র কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক এ সংস্থাটির আগের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেছেন, ‘কাশ্মীর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের শাস্তি দিতে নির্বিচারে আটক এবং বিক্ষোভ মোকাবিলায় মাত্রাতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে যা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ও গুরুতর আহত করার গঠনার জন্ম দিয়েছে তার বিবরণ আছে জাতিসংঘের আগের প্রতিবেদনে।’ চলতি সপ্তাহে ভারতীয় কর্র্তপক্ষের পক্ষ থেকে কাশ্মীরে নতুন যে বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে তা পরিস্থিতিকে ‘নতুন এক মাত্রায়’ নিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘জাতিসংঘ এখন ওই অঞ্চলে আবারও টেলিযোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, সম্ভবত এবারের বিধিনিষেধ আগে আমরা যা দেখেছি তার চেয়েও তীব্র’, বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জম্মু ?ও কাশ্মীরের জনগণকে তাদের অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গণতান্ত্রিক বিতর্কে অংশগ্রহণ থেকে বাইরে রাখবে বলেও মন্তব্য তার। বিবিসি কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে কথা বলেছে, সেখানে বিক্ষোভরত বাসিন্দারা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর দিকে পাথর ছুড়ছে বলে জানিয়েছে তারা।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে প্রায় ৭০ বছর ধরে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত কাশ্মীরের সমগ্র অংশে নিজেদের মালিকানা দাবি করে আসছে। দেশ দুটি কাশ্মীরের দুটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে ভারতশাসিত অংশে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা চলমান। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় সংঘাত-সহিংসতায় হাজারও বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ভারতের সংবিধানে কাশ্মীরের জন্য বিশেষ মর্যাদার অংশটুকু ধারা ৩৭০-এ বিবৃত ছিল। এ ধারা বলে জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজস্ব সংবিধান, আলাদা পতাকা ও স্বতন্ত্র আইন বানানোর অধিকার দিয়েছিল। অঞ্চলটির শুধু পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল দিল্লির হাতে। সাত দশকজুড়ে কাশ্মীরের সঙ্গে ভারত রাষ্ট্রের যে জটিল সম্পর্ক ৩৭০ অনুচ্ছেদই তার মূল ভিত্তি বলে গণ্য করা হয়। সংসদে বিরোধীদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও সোমবার এ ধারাটি বাতিল করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। ভারতের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও নয়াদিল্লির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।