কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি মোদির

image

কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার ভারতের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে জাতীর উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এমন প্রতিশ্রুতির কথা জানান তিনি। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার ১০ সপ্তাহের মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহারসহ তার সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। এ সময় ‘নতুন ভারত’-এর রূপরেখা ব্যাখা করতে গিয়ে তিন বাহিনীর পর্যবেক্ষণের জন্য চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নিয়োগ, সবার জন্য পানির ব্যবস্থা করতে ‘জল-জীবন মিশন’ গঠন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে ১০০ কোটি রুপি খরচের মতো তিনটি মূল বিষয় সামনে আনেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে দেয়া ভাষণে ক্ষমতায় আসার ১০ সপ্তাহের মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার (৩৭০ ধারা), তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথমবার অবলুপ্তিসহ তার সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেন। তার ৯২ মিনিটের ভাষণের অন্যতম ইস্যু ছিল ৩৭০ ধারা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ। এ সময় তিনি দাবি করেন, ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনবে। একই সঙ্গে ভারতের উন্নয়নে কাশ্মীর ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী ।কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে তার সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলেও দাবি করেন তিনি। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘একদেশ, এক জাতি’- এখন বাস্তব, এরজন্য গর্বিত ভারত’। তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার এবং তাকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার মধ্য দিয়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা কাশ্মীরে শুধু দুর্নীতিকেই অনুপ্রেরণা দিয়েছে বলে দাবি করেন মোদি। তবে গত সপ্তাহ থেকে কাশ্মীরে চলতে থাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বা অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে অঞ্চলটিকে কার্যত অচল করে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেননি প্রধানমন্ত্রী। ‘নতুন ভারত’-এর কথা বলতে গিয়ে প্রথমবার দেশের ‘জনসংখ্যাবৃদ্ধি’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি। পাশাপাশি যে সব দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে, তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক এবং সম্মানীয় বলেও জানান তিনি। এদিকে গত ১৪ই অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এক ভাষণে ভারতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তবে বৃহস্পতিবার মোদি তার ভাষণে ইমরান খানের মন্তব্যের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ গঠনের ঘোষণা

মোদির এদিনের ভাষণে কাশ্মীরের বিষয়টি প্রাধান্য পেলেও পাশাপাশি আরো কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মত একজন সেনাপ্রধান (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) নিয়োজিত করার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমক দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যার কর্তৃত্ব থাকবে ভারতের তিনটি সশস্ত্র বাহিনীর ওপর। তবে নতুন এ পদে কে আসবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নামক নতুন সামরিক পদ তৈরি করতে চলেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার লালকেল্লা থেকে বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী দেশের গর্ব। সেনাবাহিনীর প্রতিটি শাখার সমন্বয় আরও জোরালো করতে আমি একটি বড় ঘোষণা করতে চাই আজ। ভারতে একজন সিডিএস বা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ থাকবেন। আমাদের সেনাবাহিনী আরও কার্যকরী হবে এই সিদ্ধান্তের ফলে।’ সহজ ভাষায় চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হলেন, সরকারের সঙ্গে স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান সংযোগরক্ষাকারী ব্যক্তি। তিনটি বিভাগের ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হবে তাকে। এর ফলে তিনটি বিভাগের ঐক্য আরও জোরালো হবে বলে দাবি সরকারের। এ পদটি তৈরি করার জন্য বহু দিন ধরেই সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন সেনা কর্মকর্তারা। সে পরামর্শ অনুযায়ীই এবার তিনটি বিভাগের সমন্বয়সাধনের জন্য এ বিশেষ পদটি গঠন করেত যাচ্ছে তার সরকার।

১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের পর থেকে এ পদটির গুরুত্ব অনুভূত হয়। সেই সময় দেশের নিরাপত্তার ফাঁকফোঁকড় খুঁজতে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জানায়, একজন ‘সিঙ্গল পয়েন্ট’ কর্মকর্তার প্রয়োজন, যিনি প্রতিটি সামরিক বিভাগ পরিচলনারই ভার নেবেন।