কেজরিওয়াল তৃতীয়বার শপথ নিলেন

image

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো শপথ নিয়েছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রাজধানীর বিখ্যাত লালকেল্লা সংলগ্ন রামলীলা ময়দানে রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে কেজরিওয়ালকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যের গভর্নর লেফটন্যান্ট অনিল। এদিন কেজিরওয়ালের সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন তার মন্ত্রিসভার ছয় মন্ত্রী। এনডিটিভি, দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।

দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে এদিন সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথগ্রহণ শুরু হয় ১২.১৫টায়। শপথগ্রহণের এ মহোৎসবে লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটে। উপস্থিত জনতাকে এ জয় উৎসর্গ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘নির্বাচন শেষ। কোন বিষয় নয়, আপনি কাদের ভোট দিয়েছেন। আপনি আমার পরিবারের সদস্য। কোন কিছুই আমাকে কাজ করা থেকে বিরত করতে পারবে না।’

শপথ নেয়ার পর ক্ষমা ও পেছনের সব কিছু ভুলে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে কাজ শুরু করতে গিয়ে এদিন কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, আপের জয় এক নতুন ধরনের রাজনীতির দিকে ইশারা করছে। জয়ের পর কেজরিওয়াল প্রথমেই বলেছেন, ‘দিল্লিবাসীরা, আপনারা দারুণ কাজ করেছেন। আপনাদের ভালোবাসি।’

কেজরিওয়াল তার তৃতীয় মেয়াদের সরকার শুরু করেছেন পুরনো দল নিয়েই। অর্থাৎ নতুন সরকারে কোন নতুন মন্ত্রীকে যোগ করা হয়নি তার মন্ত্রিসভায়। পুরনো দলের মণীশ সিসোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন, গোপাল রাজ, কৈলাস গেহলত, ইমরান হোসেন ও রাজেন্দ্র গৌতম মন্ত্রিসভায় থাকছেন। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, তারাও রোববার দুপুরে কেজরিওয়ালের সঙ্গে শপথগ্রহণ করবেন।

দিল্লির বিখ্যাত রামলীলা ময়দানেই ৫১ বছরের কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা হয়। এখানেই আন্না হাজারের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে শামিল হন তিনি। ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার ময়দানসংলগ্ন অঞ্চলে কেজরিওয়ালের ছবিসহ ‘ধন্যবাদ দিল্লি’ লেখা বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে। মূলত দিল্লিকেন্দ্রিক শপথগ্রহণ হোক চেয়েছে আম আদমি পার্টি। তাই এ দিনের অনুষ্ঠানে কোন শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সংবাদপত্রে প্রথম পাতায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কেজরিওয়াল শহরবাসীকে এ শপথগ্রহণে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

এর আগে এএপি নেতা গোপাল রাই বার্তা সংস্থাকে জানান, আশা করা যায়, কেজরির শপথগ্রহণের সাক্ষী থাকতে এক লাখ দিল্লিবাসীর জমায়েত হবে। এজন্য আরও ছয়টি গেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে দিল্লি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা জানান, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে রামলীলা ময়দান নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। নিরাপত্তায় সর্বক্ষণ নজরদারি চালাতে বসেছে ১২৫ সিসিটিভি। থাকবেন পাঁচ হাজার পুলিশকর্মী। এ ছাড়াও ১২টি পেল্লাই মাপের এলইডি স্ক্রিন রামলীলা ময়দানের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো থাকবে।

ছয় মন্ত্রী : এদিন কেজরিওয়ালের সঙ্গে শপথগ্রহণ করেন তার মন্ত্রিসভার ছ’জন মন্ত্রী। এরা হলেন- মণীশ সিসোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন, গোপাল রাই, কৈলাস গেহলত, ইমরান হোসেন ও রাজেন্দ্র পাল গৌতম। কেজরিওয়ালের পরামর্শে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এ ছয়জন মন্ত্রীকে নিযুক্ত করেন।

এদের অন্যতম ছিলেন মণীশ সিসোদিয়া ও গোপাল রাই। সিসোদিয়ার সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা রয়েছে। তিনি ২০০৬ সাল থেকে কেজরিওয়ালের সঙ্গে রয়েছেন। সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসা মণীশ সেই সময় কেজরিওয়াল ও আরও কয়েক জনের সঙ্গে এক অবাণিজ্যিক জনস্বার্থ গবেষণা সংস্থা স্থাপন করেন।

সত্যেন্দ্র জৈন স্থাপত্যবিদ্যার স্ন?াতক। এক সময় সরকারি কর্মকর্তা থাকা সত্যেন্দ্র আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। তিনিই আম আদমি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৩ ও ২০১৫ সালেও কেজরিওয়ালের মন্ত্রিসভায় ছিলেন তিনি।

এদিকে সমাজবিদ্যায় স্নাতকোত্তর গোপাল রাই ২০১৫ সালে প্রথমবার নির্বাচনে জেতেন এবং দিল্লি মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।

রাজেন্দ্র পাল গৌতম একজন আইনের স্নাতক। তিনি ২০১৪ সালে আপে যোগ দেয়ার আগে একজন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতেন। ২০১৫ সালে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন। কৈলাস গেহলত আইনে স্নাতকোত্তর। ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। দিল্লি কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কৈলাস ১৬ বছর প্র্যাকটিস করেছেন। এবং ইমরান হোসেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া থেকে স্নাতক। তিনিও ২০১৫ সালেই প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন।

শপথগ্রহণের আগে শনিবার কেজরিওয়াল তার মন্ত্রীদের একটি নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান।