গণহত্যার অভিযোগে মায়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত ১৩ জানুয়ারি

image

রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলায় মায়ানমারের বিরুদ্ধে কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)। গাম্বিয়ার বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এক টুইটে এ কথা জানায়। রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় মায়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তরবর্তীকালীন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না- জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) সেই সিদ্ধান্ত দেবে ২৩ জানুয়ারি। গাম্বিয়ার বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার এক টুইটে আদেশের এই তারিখের কথা জানিয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে)। গত সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে গাম্বিয়ার বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মায়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালের আন্তর্জাতিক জেনোসাইড কনভেনশন ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে গাম্বিয়া। ২০১৭ সালের আগস্টে মায়ানমারের বেশ কয়েকটি সেনা পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে আগুন, নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা এবং নারীদের গণধর্ষণ করা হয়।

এদিকে গত মাসে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগেতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে নিজের দেশের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি। সেখানে তিনি মায়ানমার সেনাদের গণহত্যার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই মামলার শুনানির অধিকার নেই আন্তর্জাতিক আদালতের। ওই সময় গাম্বিয়ার পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার তথ্য প্রমাণ উত্থাপন করা হয় এবং সেখানে গণহত্যা বন্ধের আহবান জানানো হয়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মায়ানমার থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১১ নভম্বর মায়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া।