ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়াও একটি উপসর্গ!

image

বিশ্বজুড়ে মহামারীর রূপ নেয়া নভেল করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এর সাধারণ লক্ষণ হিসেবে এতদিন জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের কথা বলা হলেও আরও দুটি সম্ভাব্য উপসর্গ ভাবিয়ে তুলেছে চিকিৎসকদের। নতুন করে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তির ঘ্রাণশক্তি লোপ এবং খাবারের স্বাদ বুঝতে না পারার উপসর্গ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। নিউইয়র্ক টাইমস।

মার্কিন প্রভাবশালী এ সংবাদ মাধ্যমটির সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে এ কয়েকটি দেশের নাক, কান, গলা বিষেজ্ঞদের বরাতে বলা হয়েছে, এ দুটিও নতুন এ ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। তারা বলছেন, নতুন নভেল করোনাবাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও বা তার মধ্যে অন্য কোন উপসর্গ না থাকলেও ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়া এবং খাবারের স্বাদ বুঝতে না পারার লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে কমপক্ষে সাত দিনের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা বলছেন, ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও নেহায়েত কম না। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২ হাজার রোগীর ৩০ শতাংশের মধ্যেই এ উপসর্গ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তারা। বিভিন্ন দেশ থেকে সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে গত ২০ মার্চ শুক্রবার ব্রিটিশ একদল নাক, কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, বয়স্ক ব্যক্তি যাদের মধ্যে ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়ার লক্ষণ দেখা দেখা দিতে পারে। এমনকি অন্য কোন লক্ষণ না থাকলেও যাতে রোগটি দ্রুত ছড়াতে না পারে সেজন্য তাকে সাত দিনের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে। নতুন এ উপসর্গ নিয়ে খুব বেশি তথ্য-উপাত্ত পাওয়া না গেলেও সতর্ক হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে অভিমত এ চিকিৎসকদের।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ মার্চ রোববার আমেরিকান একাডেমি অফ অটোলারিঙ্গোলজির (হেড অ্যান্ড নেক সার্জারিবিষয়ক) ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, ঘ্রাণশক্তি হারানো বা খাবারের স্বাদ বুঝতে না পারা যে কোভিড-১৯ -এর উপসর্গ, অকল্পনীয়ভাবে তার অনেক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তারা এমন রোগীও পেয়েছেন যাদের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত না হলেও এ দুটি ছাড়া অন্য কোন উপসর্গ ছিল না। চীনের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইতালির রোগীদের মধ্যেও এ ধরনের উপসর্গ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জার্মানির হেইন্সবার্গের ঘরে ঘরে গিয়ে কোরানায় আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন বন ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্ট হেনড্রিক স্ট্রিক। তিনি বলেছেন, শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তাদের দৃই তৃতীয়াংশের কাছ থেকে ঘ্রাণশক্তি এবং মুখের স্বাদ হারিয়ে ফেলার তথ্য পেয়েছেন।

ব্রিটিশ রাইনোলজিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ক্লেয়ার হপকিন্স এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সত্যিই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করতে চাই, কারণ এটি সংক্রমণের একটি লক্ষণ। কারও ঘ্রাণশক্তি লোপ পেলে তার উচিত স্বেচ্ছায় আলাদা থাকা। এর ফলে (ভাইরাসের) বিস্তারের গতি কমবে এবং প্রাণও বাঁচবে।’ যেসব রোগীর ঘ্রাণশক্তি লোপ পেয়েছে-এমন রোগীদের চিকিৎসার সময়ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণে (পিপিই) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন হপকিন্স এবং ব্রিটিশ নাক, কান, গলার চিকিৎসকদের সংগঠন ইএনটি ইউকের প্রেসিডেন্ট নির্মল কুমার।