চীনের দিকে আঙুল তুলল মিত্র মিয়ানমার

image

মিয়ানমারের বিচ্ছিন্ততাবাদী গোষ্ঠীদের উন্নত অস্ত্র দিচ্ছে চীন। এমন অভিযোগ তুলে বিদ্রোহীদের ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইল মিয়ানমার। অথচ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় মিয়ানমারই চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইঙ বলেন, মিয়ানমারে সন্ত্রাসী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এবং তাদের সমর্থন দিচ্ছে ‘শক্তিশালী বাহিনী’। ভারতের পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ‘শক্তিশালী বাহিনী’ বলতে মিয়ানমারের উত্তরের প্রতিবেশি চীনকেই ধরে নেয়া হয়।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা অবশ্য পরে দিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ মিন তুন। তিনি বলেন, সেনাপ্রধান আরাকান আরইম (এএ) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (এআরএসএ) বুঝিয়েছেন।

আরাকান আর্মির পেছনে একটি ‘বিদেশী রাষ্ট্র’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর পক্ষে গতবছর সামরিক বাহিনির ওপর আরাকান আর্মির হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। ওই অস্ত্র ছিল চীনের তৈরি।

চীনের দিকে মিয়ানমারের আঙুল তোলার বিষয়টি অস্বাভাবিক। তবে এরকম ঘটনা এটিই প্রথম নয়।

গতবছর বিপুল এক অস্ত্রভাণ্ডার খুঁজে পাওয়ার পর এর সঙ্গে চীনের সম্পর্কের কথা তুলেছিল মিয়ানমার সামরিক বাহিনি। ভাণ্ডারটি ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির।

ওই ভাণ্ডারে ভূমি থেকে আকাশে ছোড়ার মতো ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। যার প্রতিটির দাম ৭০ থেকে ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

মিয়ানমারের চীন সীমান্তে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চীনা অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। যা থেকে বিদ্রোহীদের পেছনে চীনের সম্পৃক্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে হিন্দুস্তান টাইমস এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই সম্পৃক্ততার লক্ষ্য মিয়ানমারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।