ব্রেক্সিট ইস্যু : জনসনকে হারিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিলেন এমপিরা

image

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভোটাভুটির একাংশ

ব্রেক্সিট ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে হারিয়ে বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন ব্রিটিশ এমপিরা। ব্রেক্সিট নিয়ে এদিন রাতে পার্লামেন্টে এক ভোটাভুটিতে হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে বুধবার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিল চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের বিরোধী এমপিরা, যার নেতৃত্বে রয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টি। এখন তাদের জন্য চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে একইদিন একটি বিল আনার পথ তৈরি হলো। তবে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জানিয়েছেন, আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনবেন তিনি। এমন পরিস্থিতি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে ।

আগামী ৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার কথা। তবে কীভাবে ও কোন চুক্তিতে এ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হবে-তা নিয়েই চলছে জোর তৎপরতা। এ নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই বেশ উত্তপ্ত ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গন। তবে এ বিচ্ছেদ নিয়ে কোন চুক্তি হোক বা না হোক, নির্ধারিত তারিখেই ব্রেক্সিট কার্যকর করার বিষয়ে এর আগে অনড় থাকার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী বরিস। এর মধ্যেই ছুটি শেষে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। আগেই এক সভায় হুঁশিয়ারি জানান, ব্রেক্সিট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির যারা বিরোধিতা করবেন তাদের বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু বিরোধীদলের পাশাপাশি নিজ দলের ২১ বিদ্রোহী এমপির কাছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ কমন্সে ৩২৮-৩০১ ভোটে হেরে যান তিনি।

বরিসের দলের বিদ্রোহী ২১ এমপির মধ্যে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীও আছেন, তারা এই ভোটাভুটিতে সরকারকে হারাতে বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এ ভোটে জয়ের ফলে বুধবার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ পেলেন বিরোধী ও বিদ্রোহী এমপিরা। এ ভোটের ফলে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের বিরোধীরা ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে পার্লামেন্টে বিল আনতে পারবেন। এ ঐতিহাসিক ভোটের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব টোরি এমপি বিদ্রোহ করেছেন তাদের পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হবে। এরই ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জানান, তিনি পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনবেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রত্যাশা, বহিষ্কার হুমকি ও আগাম নির্বাচনের কথায় বিদ্রোহী এমপিরা হয়তো অবস্থান পাল্টাবেন। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে দেশে আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বরিস বলেছেন, অক্টোবরে নির্বাচনের প্রচেষ্টা চালানো ছাড়া তার আর কিছু করার নেই। কারণ তিনি বলেন, দেশের জনগণকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এটিও তার জন্য খুব একটা সহজ হবে না। কারণ যুক্তরাজ্যে ২০১১ সালের একটি আইনে পার্লামেন্টকে পাঁচ বছরের মেয়াদ দেয়া হয়েছে। এখন সেটি পরিবর্তন করতে হলে পার্লামেন্টে বরিসের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে। এর পাশাপাশি বিরোধী লেবার পার্টির সমর্থনও প্রয়োজন হবে তার। আর প্রধানমন্ত্রী বরিসের জন্য তা খুব একটা সহজ হবে না বলে অভিমত রাজনীতি বিশ্লেষকরদের।

এমপিরা যদি চুক্তিবিহীন ব্রক্সিটের বিরুদ্ধে বিল এনে সেটি পাস করাতে সক্ষম হন, তাহলে তারা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার প্রস্তাব দিতে প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে বিল আনার সুযোগ পাবেন। তবে সেটি তখনি ঘটবে যদি এমপিরা ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিটের জন্য একটি নতুন চুক্তি অনুমোদন বা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট না দেন। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটিশ সরকার ১৫ই অক্টোবর একটি সাধারণ নির্বাচন করতে চান। তার দুদিন পরেই ব্রাসেলসে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বসবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাজ্যের হাতে সময় রয়েছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত (৫৫ দিন)। তাই বিরোধীদের এখন দাবি, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট (নো ডিল ব্রেক্সিট) যেন না হয় তা আগে নিশ্চিত করা, তারপর যত দ্রুত সম্ভব সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া।