ট্রাম্পের গেমচেঞ্জার ওষুধ ব্যবহারে ডব্লিউএইচও-এর নিষেধাজ্ঞা

image

করোনা ভাইরাস চিকিৎসার পরীক্ষামূলক ওষুধ হিসেবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার স্থগিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সোমবার তারা জানিয়েছে, ঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি দেশে সাময়িকভাবে এটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ওষুধটি ব্যবহারে কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডব্লিউএইচও। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ওষুধটিকে গেমচেঞ্জার আখ্যা দিলেও সে দেশের ওষুধ প্রশাসন আগেই এটির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।

করোনাভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনও স্বীকৃত ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় পরীক্ষামূলক বিভিন্ন তৎপরতা চলছে। চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে চীনে ফেব্রুয়ারি মাসে চালানো এক সমীক্ষার পর বিষয়টি নিয়ে লেগোসে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। মার্চের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ওই ওষুধ অনুমোদন করেছে। তবে তখনই দাবিটি নাকচ করে দেয় এফডিএ। তা সত্ত্বেও লোকজনের মধ্যে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন কিনে ঘরে মজুত করার হিড়িক পড়ে যায়। তবে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন এই ওষুধের ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়। নতুন এক গবেষণাতেও একই ধরনের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ল্যানচেট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, করোনাভাইরাস রোগীদের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ায় কোনও লাভ নেই। এমনকি এতে মৃত্যুঝুঁকিও বাড়তে পারে। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় নিরাপদ আর লিউপাস কিংবা আর্থারাইটিসের মতো লক্ষণ চিকিৎসাতেও এটি নিরাপদ। কিন্তু কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষায় কোভিড-১৯ চিকিৎসায় এটি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়নি।

কোভিড-১৯ চিকিৎসায় কোন ওষুধ ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালাচ্ছে ডব্লিউএইচও। সোমবার জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব পরীক্ষার তালিকা থেকে বাদ পড়বে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন।

বেশ কিছুদিন ধরেই করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং এই সংশ্লিষ্ট ক্লোরোকুইন ব্যবহার করতে মার্কিন কর্মকর্তাদের চাপ দিয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ওষুধ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সম্প্রতি পদ হারিয়েছেন বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের (বিএআরডিএ) পরিচালক রিক ব্রাইট। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধের ব্যবহার নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের জের ধরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।