ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানিসহ নিহত আট

image

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর জেনারেল তথা ইসলামি বিপ্লবী (ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ডস কর্প) গার্ড-এর অভিজাত কুদ’স বাহিনীর (এলিট ফোর্স) প্রধান কাসেম সোলেইমানি। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে চালানো ওই হামলায় তিনিসহ আট জন নিহত হয়েছেন। এ সময় সোলেইমানির সঙ্গে দেশটির আধা সামরিক বাহিনীর (প্যারামিলিটারি) সহকারী প্রধান আবু মাহদি আল মুহানদিসও ছিলেন। এদিকে কাসেম সোলেইমানিকে ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়েছে’ বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগণ। অপরদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে হওয়া এক হামলায় মারা যাওয়া বেশ কয়েকজনের মধ্যে কাসেম সোলেইমানিও রয়েছেন। তবে এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল, তা এবার আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি এপির প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালানোকে কেন্দ্র করে ইরান-মার্কিন উত্তেজনা আবার চরমে পৌঁছেছে। ইরানের মদতপুষ্ট ইরাকি জঙ্গি গোষ্ঠী কায়তাব হিজবুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, গত সপ্তাহে বাগদাদে মার্কিন সামরিক ঘাটিতে এক মার্কিন ঠিকাদারকে হত্যা করেছিল জঙ্গি এ গোষ্ঠীটি। তারপর দিনই (রোববার) ইরাকে অবস্থিত কায়তাব ঘাটিতে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। এতে বেশ কিছু কায়তাব শীর্ষ নেতার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে জঙ্গি গোষ্ঠীটি। জবাবে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় কায়তাব। দূতাবাসে ভাঙচুর করার পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয়ারও চেষ্টা চলে। একইদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিশোধ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। রাতারাতি বাগদাদে ৭৫০ জন অতিরিক্ত সৈন্য পাঠায় ওয়াশিংটন। পাল্টাপাল্টি এমন পদক্ষেপের জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা সেখান থেকে সরে গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট রুহানির পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে ঠাণ্ডা লড়াই অব্যাহত থাকে। এরই ধারবাহিকতায় শুক্রবার ইরানের সেনাবাহিনীর নিজস্ব সংবাদমাধ্যম জানায়, এ দিন হঠাৎই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশন বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। জ্বলতে থাকা কার্গোর কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করে তারা। তবে প্রাথমিকভাবে তারা বিস্ফোরণে হতাহতের কোন খবর জানায়নি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পেন্টাগণ জানায়, তাদের চালানো (ড্রোন) হামলায় ইরানের জেনারেলের মৃত্যু হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ইরানের সেনাবাহিনীও খবরের সত্যতা স্বীকার করে নেয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিমানবন্দর থেকে বেরনোর সময় সেনাবাহিনীর জেনারেলের গাড়ির ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাতেই তিনি নিহত হয়েছেন।

তবে মার্কিন কংগ্রেস ট্রাম্পের এ হামলাকে সমর্থন করেনি। দেশটির বিরোধীদলীয় ডেমোক্র্যাট নেতা ক্রিস মারফি ইরানের সেনাবাহিনীর ওপর চালানে এমন হামলা প্রসঙ্গে এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘সোলেইমানি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই । কিন্তু যেভাবে কংগ্রেসে আলোচনা না করেই ট্রাম্প বাগদাদে ঢুকে তাকে হত্যা করলেন, তাতে সমস্যা আরও জটিল হল। যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো। এটা একেবারেই মেনে নেয়া যায় না।’ তবে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ট্রাম্প যে সরাসরি ইরানের জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ওপর হামলা করে বসবেন- এমনটা হয়তো কল্পনাও করেননি কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, নিজ দেশের কংগ্রেসে চাপের মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিশংসন ইস্যু থেকে সবার নজর অন্যদিকে ফেরাতে ইরানের বিরুদ্ধে এমন আগ্রাসী পদক্ষেপও নিয়ে থাকতে পারেন। এমনকি এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আর স্নায়ু যুদ্ধ নয়, এবার সরাসরি যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো।

এমন ঘটনার পরে তেহরানও চুপ করে বসে থাকবে না বলে ধারণা রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, এর প্রতিশোধ অবশ্যই নেয়া হবে। এ ঘটনাটিকে ঘিরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সব দেশই এর ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে।