তথ্য ফাঁস কেলেঙ্কারি : ফেসবুককে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা

image

কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা কেলেঙ্কারিতে গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস হওয়ার দায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন। ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তাদের এ জরিমানা করা হয়েছে। এদিক, মার্কিন বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যালোচনা করার জন্য একটি বোর্ড গঠন করতে যাচ্ছে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট)। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা ও পরিধি নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

গত বছর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য বেহাত হয়ে কেমব্রিজ অ্যানালাইটিক নামের প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এসময় একজন গবেষককে ব্যবহারকারীদের তথ্যভা-ারে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। কিন্তু ওই গবেষকের সূত্রে ব্যবহারকারীদের তথ্য চলে যায় কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকের কাছে। অভিযোগ ওঠে, ডানপন্থি পত্রিকা ব্রেইটবার্টের প্রধান ও পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান পরিকল্পনাবিদ স্টিভ ব্যানন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত। তিনি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করে ২০১৬ সালের নির্বাচন প্রভাবিত করেছেন। কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকে কাজ করা সাবেক একজন কর্মী এসব তথ্য ফাঁস করে দেন। পরবর্তীতে এর জেরে ফেসবুকের প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে কংগ্রেসে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুককে একটি স্বাধীন প্রাইভেসি কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। এই কমিটির ওপর ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ কোন খবরদারি করতে পারবেন না। ফেডারেল ট্রেড কমিশনের প্রধান জো সিমন্স বলেন, কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে ফেসবুক বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে শেয়ার করা হবে সে বিষয়টা তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। কিন্তু তারা এই অঙ্গীকার রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ভোক্তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করার জন্য কোন কোম্পানিকে এর আগে কখনও এত বড় অংকের জরিমানা করার নজির আর নেই।

এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগ জানায়, সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক মাধ্যমসহ অন্যান্য প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তরা যে অভিযোগ করেছেন সেগুলো খতিয়ে দেখবে ওই বোর্ড। অ্যাটর্নি জেনারেল মাকান ডেলরাহিম বলেন, যথাযথ বাজারভিত্তিক নিয়মাবলি না থাকলে এসব প্ল্যাটফর্ম এমন আচরণ করতে পারে, যা গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণ করে না। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন ও অ্যাপলের মতো বড় সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত করবে এই কমিটি। মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ বেশ কয়েকজন সদস্য দাবি করেছিলেন এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।

এর আগে গত সপ্তাহে ফেসবুক, গুগল এবং অ্যামজনকে প্রতিনিধি পরিষদের একটি উপকমিটিতে তলব করা হয়। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আইনপ্রণেতারা অ্যামাজনকে প্রশ্ন করেন তারা তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতার জন্য ফি নির্ধারিত করার বিষয়ে একচেটিয়া আচরণ করে কিনা। ফেসবুকের কাছে তাদের প্রশ্ন ছিল, নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা অন্য প্রতিষ্ঠানের ফিচার নকল বা চুরির জন্য অভিযুক্ত করে কি না।

এছাড়া চলতি মাসে ফেসবুক বৈশ্বিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির ঘোষণা দেয়ার ব্যাপারেও সমালোচনা করেন আইনপ্রণেতারা। লিবরা নামের ওই অনলাইন মুদ্রার ব্যাপারে ওহাইওর সিনেটর শেরড ব্রাউন বলেন, সম্প্রতি বড় বড় কয়েকটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পরও ফেসবুক এমন ঘোষণা দিয়ে আসলে ‘অবিশ্বাস্য ঔদ্ধত্য’ দেখিয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের সাংকেতিক মুদ্রা, যার কোনও বাস্তব রূপ নেই। এর অস্তিত্ব শুধু ইন্টারনেট জগতেই আছে। এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব। যার পুরো কার্যক্রম ক্রিপ্টোগ্রাফি নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সাল থেকে এটি একটি উঠতি মার্কেটে পরিণত হয়েছে।