তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সমুচিত জবাব দেবে তেহরান

image

সম্প্রতি সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দরের কাছে লোহিত সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে ইরানের তেল ট্যাংকার সাবিতি। এ নিয়ে আবারও ত্রিমুখী উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ইরান-সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যোগ্য জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেভাবে তার দেশের তেল ট্যাংকারের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে তার জবাব না দিয়ে চুপ থাকবে না ইরান। তেহরান টাইমস।

গত মাসে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল ট্যাংকারে ধারাবাহিক কয়েকটি হামলার পর শুক্রবার ভোর পাঁচটায় ১ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী ইরানের তেল ট্যাংকারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জেদ্দা বন্দর থেকে ৯৬ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে থাকা সাবিতি নামের ট্যাঙ্কারটি সন্দেহজনক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ায় ফুটো হয়ে গেছে, সেটি থেকে সে সময় তেল ছড়িয়ে পড়ার কথা জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ওটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। তেহরানের তেল ট্যাংকারে হামলার পর বিশ্ব তেলবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬০ দশমিক ৪৬ ডলারে বিক্রি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতে বিখ্যাত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দিতে পারে ইরান। যদি এটি সত্যি হয় তবে বিশ্ব তেল বাজারে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে এবং বেড়ে যাবে জ্বালানির দাম। এরই মধ্যে তেল ট্যাংকারে হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। আলী শামখানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলকে অনিরাপদ করার জন্য যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে তারও জবাব দেওয়া হবে। তবে জবাব বলতে কি করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি। ১১ অক্টোবর শুক্রবার সকালে ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির ট্যাংকার সাবিতি সৌদি আরবের জেদ্দা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে লোহিত সাগরে সন্দেহভাজন হামলার শিকার হয়। ইরান বলছে, জাহাজটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আলী শামখানি জানান, তেল ট্যাংকার সাবিতির ওপর হামলার ব্যাপারে তদন্ত করতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। এরপর সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদির দুটি তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পর রিয়াদের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীরা ওই হামলার দায় স্বীকার করলেও শুরু থেকেই এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে আসছে সৌদি আরব।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ হয় রিয়াদ। কিন্তু দৃশ্যত রিয়াদের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই নড়েচড়ে বসেন সৌদি যুবরাজ। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান ও ইরাকের শরণাপন্ন হন এমবিএস নামে পরিচিত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ পরিষ্কার জানিয়ে দেন, রক্তপাত (ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন) থামালেই কেবল রিয়াদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। এরই মধ্যে শুক্রবার সৌদি উপকূলে ইরানি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।‘রেড সি’ ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশ ইরান ও সৌদির মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।