মুসলিমবিরোধী সহিংসতা

দাঙ্গা দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের অঙ্গীকার শ্রীলঙ্কার পুলিশপ্রধানের

image

মুসলিমবিরোধী সহিংসতা জেরে শ্রীলঙ্কায় কারফিউ জারির পরও দেশটিতে মুসলিমদের মসজিদ ও দোকানে হামলা আব্যাহত রয়েছে। এতে শেষ খবর পাওয়ার আগ পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৩ মে সোমবার এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে কারফিউ জারির পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে দেয় লঙ্কান কর্তৃপক্ষ। এক টেলিভিশন ভাষণে দেশটির পুলিশ প্রধান চন্দনা বিক্রমারত্নে সতর্ক করেছেন, সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে দাঙ্গাবাজদের প্রতিহত করা হবে।

নিহত ব্যক্তি ৪৫ বছর বয়সী এক মুসলিম কাঠমিস্ত্রি। সোমবার তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে একদল দাঙ্গাবাজ। শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে সাম্প্রতিক হামলার পর থেকেই খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। তবে এবার কলম্বো থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের ক্যাথলিক খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহর চিলাওয়ের এক দোকানদারের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ‘হাসাহাসি করো না। একদিন তোমাদেরও কাঁদতে হবে’। মুসলিম ব্যক্তির দেয়া এ ফেসবুক পোস্টকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের প্রতি দেয়া বার্তা হিসেবে নেয়। এরপর তার ওই ব্যক্তির দোকান পুড়িয়ে দেয়। সেখান থেকেই দাঙ্গার সূত্রপাত। চিলাওয়ের কয়েকটি মসজিদেও হামলা চালিয়েছে দাঙ্গাবাজরা। মূলত কলম্বোর উত্তরের তিনটি শহরে এ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। কিনিয়ামায় মসজিদের দরজা-জানালা ভেঙে দেয়া হয়েছে। মেঝেতে ছুড়ে ফেলা হয়েছে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন। দেশটির হেটিপোলা শহরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে মুসলিমদের তিনটি দোকান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন জেলায় এবং পরে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে সে দেশের সরকার। তা সত্ত্বেও সহিংসতা থামানো যায়নি। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় শ্রীলঙ্কাজুড়ে জারি থাকা রাতভর কারফিউ আংশিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির আগ পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম প্রদেশে কারফিউ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সে দেশের পুলিশ। তিন সপ্তাহ আগে ইস্টার সানডে’র দিনে দেশটির ৩টি গির্জা ও কয়েকটি হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় ২৫৩ জন নিহত হয়েছিলেন।

হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস বিবৃতি দেয়ার পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়ে আসছে মুসলিম সম্প্রদায়। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার ফেসবুকে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে রাজধানী কলম্বোর উত্তরের কয়েকটি জেলায় মুসলিমবিরোধী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে তিন জেলায় এবং পরে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে সে দেশের সরকার। তা সত্ত্বেও সহিংসতা থামানো যায়নি।