দিল্লিতে গাড়ি চলছে ‘জোড়-বিজোড়’ নিয়মে

image

বায়ুদূষণের অতি বিপজ্জনক মাত্রা মোকাবিলায় রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে জোড়-বেজোড় পদ্ধতি (রোড রেশন স্কিম) গ্রহণ করেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ম অনুযায়ী, দিল্লির সড়কগুলোতে একদিন শুধু জোর নম্বরের গাড়ি চলবে এবং পরেরদিন শুধু বিজোড় নম্বরের গাড়ি চলবে। ৩ অক্টোবর রোবরাব স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকেই এ নিয়ম চালু হয়েছে বলে দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে। এদিকে সোমবার (৪ অক্টোবর) থেকে এ পদ্ধতি চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে অপর সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। যা আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে দিল্লি ও এর আশেপাশের এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দিল্লির দূষণের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানীবাসীর প্রতিটি শ্বাসেই যেন ফুসফুসে প্রবেশ করছে মারণ বাতাস। দূষণের মাত্রা যেন ক্রমেই বাড়ছে। রোববার দিল্লিতে দূষণের মাত্রা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। এদিন ধোঁয়াশার কারণে অল্প কিছু দূরের জিনিসও কম দেখতে পাওয়ায় দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ৩২টি বিমানের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার ১২টি বিমানও ছিল। দিল্লি বিমানবন্দরের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এদিকে আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবার থেকে চালু হওয়া জোড়-বিজোড় নিয়ম অনুযায়ী, একদিন পর পর দিল্লির রাস্তায় চলবে জোড়-বিজোড় রেজিস্ট্রেশন প্লেটযুক্ত যানবাহনগুলো। রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে এ নিয়মের লঙ্ঘন ঠেকাতে দিল্লির বিভিন্ন অংশে ২০০ জন ট্র্যাফিক পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে প্রায় পাঁচ হাজার সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যে সব গাড়ির নম্বরের শেষ সংখ্যাটি বিজোড়া সেগুলোকে ৪, ৬, ৮, ১২ ও ১৪ তারিখে রাস্তায় নামতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে যে সব গাড়ির শেষ সংখ্যাটি জোড় সেগুলোকে ৫, ৭, ৯, ১১, ১৩ ও ১৫ তারিখে রাস্তায় নামতে নিষেধ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শুধু ১০ নভেম্বর, গত রোববার সব নম্বরের গাড়ি রাস্তায় নামতে পারবে বলে জানিয়েছে দিল্লি রাজ্য সরকার। এ পদ্ধতি চালু করায় কয়েক লাখ গাড়ি রাস্তায় নামবে না বলে জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ নিয়ম চলাকালে প্রতিদিনের যাত্রী চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ৬১টি ট্রেন পরিচালনা করবে দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। রাজ্য সরকার রাস্তায় অতিরিক্ত ৫০০ বাসও নামিয়েছে। নিয়ম ভঙ্গকারীকে চার হাজার রুপি জরিমানা করা হবে। শুধু জরুরি যানবাহন, ট্যাক্সি ও দুই চাকার যান এ নিয়মের বাইরে থাকবে। একা গাড়ি চালানো নারীরাও ছাড় পাবেন। দিল্লির বাতাসে পিএম ২.৫ বলে পরিচিত বিপজ্জনক কনার পরিমাণ সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি আছে। অতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে দিল্লির লাখ লাখ বাসিন্দা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দিল্লির বাসিন্দাদের ঘরের ভিতরে থাকার ও সব ধরনের শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। স্কুলগুলো মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে, যা শুক্রবার পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপরদিকে দেশটির অপর সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার যেখানে দিল্লিতে দূষণের মাত্রা ছিল ৪০৭, সেখানে রোববার বাতাসে বায়ুদূষণের সূচক বা একিউআই বেড়ে ৬২৫-এ পৌঁছে যায়। পুরো শহরজুড়ে এতোটাই ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে যে, শ্বাস নেয়াও দুষ্কর হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই পরিস্থিতিকে অসহনীয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দিল্লির মানুষ এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাতে তাদের কোন দোষ নেই। রোববার দিল্লির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতেও দূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি ছিল। উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় দূষণের কারণে আজ পর্যন্ত সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক টুইটার বার্তায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘উত্তর ভারতজুড়ে দূষণ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। নগরবাসীও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দিল্লির মানুষ তাদের কোন দোষের জন্য এই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন না।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে দিল্লির বায়ুদূষণ মোকাবিলায় একদিন শুধু জোর নম্বরের গাড়ি এবং অন্যদিন শুধু বিজোড় নম্বরের গাড়ি চলানোর পদ্ধতি চালু করা হয়। তবে তাতে কতটা কাজ হয়েছিল তা পরিষ্কার নয় বলে মন্তব্য বিবিসির।