দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা ইমরানের

image

কাশ্মীর ইস্যুতে ফের ভারতের কড়া সমালোচনা করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একই সঙ্গে দেশটির সঙ্গে আর কোন সংলাপে যেতে আগ্রহী নন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান নিজের এ আবস্থানের কথা জানান। এতে করে পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ইমরান বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ৫ আগস্টের আগে ও পরে বারবার যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে আলোচনার কোন মানে নেই। আমি অনেক কথা বলেছি। এখন আমি পেছনে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, আমি শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি, আর একে দুর্বলতা বলে মনে করা হচ্ছে। আমাদের এর বেশি আর কিছু করার নেই।’ কাশ্মীরের অচলাবস্থা শুরুর পর প্রথমবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইমরান খান। তিনি বলেন, ৮০ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, সেখানে জাতিগত নিধন এবং গণহত্যা সংঘটিত হতে পারে।’ তকে এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। কাশ্মীর ইস্যুকে অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে আখ্যা দিয়েছে তারা। জানায়, সেনা মোতায়েনের ব্যাপারটি সাময়িক ও জরুরি। ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরে ভারত কোনও ভুল অভিযান চালাতে পারে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, তখন পাকিস্তানও জবাব দিতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, ‘পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ যখন চোখে চোখ রেখে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেয় তখন যে কোনও কিছুই হতে পারে। বিশ্ব শান্তির জন্য যা ভালো কিছু নয়।’ একদিন আগেই ফোনে ট্রাম্পকে সামগ্রিক পরিস্থিতি জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই ইস্যুতে ট্রাম্পকে ফোন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নালিশ জানান। দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর সোমবার টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থাকে ‘একটি কঠিন পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরদিন মঙ্গলবার এনবিসি নিউজের সঙ্গে আলাপকালে অঞ্চলটির বিদ্যমান অবস্থাকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ায় এর আগেও বারবার ভারত সরকারের হিন্দু জাতীয়তাবাদের সমালোচনা করেছেন ইমরান। সাম্প্রতিক তার এ মন্তব্য নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোন জবাব পাওয়া যায়নি এখনও। তবে নিউইয়র্ক টাইমস পরিদর্শনকালে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ইমরানের আভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কাশ্মীরে সরকারি অফিস, ব্যাংক ও হাসপাতাল স্বাভাবিকভাবেই চলছে। পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতের বর্তমান সরকারকে ইমরান খান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ এ অঞ্চলে গণহত্যা হতে পারে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত-পাকিস্তানের তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মীর ইস্যুতে। গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। দুই দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মীর সীমান্তে চলছে টানটান উত্তেজনা। একইসঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে কালো দিবস হিসেবে পালন করেছে পাকিস্তান।

উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান ফ্রান্সের

কাশ্মীর সংকট ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় ইস্যু বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশটি রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ সমাধান এবং উত্তেজনা বাড়ায় এমন পদক্ষেপ থেকে উভয় দেশকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি সঙ্গে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইয়েভেস লে ড্রায়ানের ফোনালাপে এ অবস্থানের কথা জানায় প্যারিস। ফোনালাপে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাশ্মীর ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। কাশ্মীরকে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় ইস্যু উল্লেখ করে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ইস্যুটির সমাধান দীর্ঘমেয়াদি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবগুলোকে পরিস্থিতি আরও নাজুক না করতে উত্তেজনা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।