দুর্নীতির জের : বিপাকে ইউরোপের দুই দেশ

image

দুর্নীতি সংক্রান্ত দু’দুটি ঘটনার জের ধরে অস্ট্রিয়ায় সরকারের পতন ও রোমানিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতার কারাদণ্ড ইউরোপে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দেশ দুটির এমন পরিণতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ইইউ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ইউরোপে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ইউরোপ-বিরোধী শক্তির উত্থান বিগত কয়েক বছর ধরে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অস্ট্রিয়া ও ইতালির মতো দেশের জোট সরকারেরও শরিক হিসেবে ক্ষমতা কেন্দ্রে থাবা বসিয়েছে চরম ডানপন্থি শক্তি। জার্মানিতে প্রধান বিরোধী দলের আসন দখল করেছে এ শিবিরের এএফডি দল। ইউরোপের পূর্বাংশে একাধিক দেশে এমন কিছু দল ক্ষমতায় এসেছে, যারা ইইউয়ের মৌলিক মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করছে। কিন্তু দুর্নীতি, অভিবাসন বিরোধিতা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে বিষাদগারের মতো একাধিক কারণে বার বার সংবাদ শিরোনাম দখল করছে এ দলগুলোর কর্মকা-। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ায় এক কেলেঙ্কারির জের ধরে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে চরমপন্থি ফ্রিডম পার্টিকে(এফপিও)। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে এমন একটি ভিডিও প্রকাশ্যে চলে আসে, যাতে এ দলের শীর্ষ নেতার দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা পড়েছে। ফলে জোট সরকার থেকে এফপিও দলকে বাধ্য হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে। রোববার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভালো ফল করা সত্ত্বেও পরদিন (সোমবার) পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে গিয়ে দেশটির চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান ক্রুজকে বিদায় নিতে হয়। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় আগাম নির্বাচনে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে পুরো ইউরোপের নজর থাকবে।

সোমবার দুর্নীতি সংক্রান্ত আরেকটি ঘটনা ইউরোপকে নাড়া দিয়েছে। রোমানিয়ার ক্ষমতাসীন দলের নেতা লিভিউ দ্রাগনেয়া সাড়ে তিন বছরের জন্য কারাবাস শুরু করেছেন ইতোমধ্যেই। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে দুর্নীতিতে জর্জরিত ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবির ঠিক পরের দিন রোমানিয়ার এক আদালত দ্রাগনেয়ারের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখেছে। ফলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিচার ব্যবস্থার বিতর্কিত সংস্কারের উদ্যোগের কারণে দ্রাগনেয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বারবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে রোমানিয়া প্রথমবার ইইউয়ের সভাপতি দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছিল। দ্রাগনেয়া এর আগেও নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। ফলে তিনি দলের নেতা হয়েও প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে পারেননি। তবে ক্ষমতা কেন্দ্রের বাইরে থেকেও তিনি কলকাঠি নেড়ে চলছিলেন। ২৮ মে মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন দলের জরুরি বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

মৌলিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অত্যন্ত গর্বের বিষয়। অস্ট্রিয়া, রোমানিয়ার ঘটনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র দেশ মাল্টার সরকারের বিরুদ্ধেও একই দিন (সোমবার) সমালোচনা শোনা যায়। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির এক সাংবাদিক হত্যার তদন্তে কোন অগ্রগতি না হওয়ার জন্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে ইউরোপীয় পরিষদ। আজ (বুধবার) বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা।