নতুন বিক্ষোভ : সুদানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চার শিক্ষার্থী নিহত

image

বুধবার থেকে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখতে সব রাজ্যের গভর্নরদের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার

সুদানের ৪ স্কুল শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)। এছাড়াও এ সময় আহত হন আরও অনেকে। দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে রাজধানী খার্তুমে সোমবার (২৯ জুলাই) এক বিক্ষোভ হয়। এতে শিক্ষার্থীরা যোগ দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এদিকে ওই চার শিক্ষার্থীকে হত্যা করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করেছে দেশটির সব শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ। এ বিক্ষোভের মুখে দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়ায় পরদিন (মঙ্গলবার) সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সামরিক সরকার। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউ আরব, দ্য গার্ডিয়ান, আফ্রিকা নিউজ।

সুদানের সামরিক সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বুধবার (৩১ জুলাই) থেকে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখতে সব রাজ্যের গভর্নরদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে ২৯ জুলাই রাষ্ট্রীয় হত্যাকা-ের শিকার চার স্কুল শিক্ষার্থীর শহর পরিদর্শনে যান এবারের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া নেতা। এ সময় তিনি সরকারের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দেন। মূলত তার ওই ঘোষণার পরই স্কুলগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয় সুদানের সৌদি-আমিরাত সমর্থিত সামরিক সরকার। বেসামরিকদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে সোমবার আয়োজিত ওই বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় চার স্কুল শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করে তারা।

চলতি বছরের ১১ এপ্রিল এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন দেশটির তিন দশক ধরে শাসন ক্ষমতায় থাকা ( ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১৯-এর মার্চ পর্যন্ত) ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির। জ্বালানি ও রুটির দাম বৃদ্ধির এক সরকারি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরই ধারবাহিকতায় একদিনেই (৩ জুন) বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযানে নিহত হন ৮৭ জন। এছাড়াও আহত হন আরও ১৬৮ জন। এখনও রাজধানী খার্তুমের বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের সদস্যরা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বশিরকে উৎখাতে সেনাবাহিনীকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো। গত জুনে সুদানের সামরিক সরকারের ধরপাকড় বন্ধে সৌদির প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র।