নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না করার আহ্বান জাতিসংঘের

image

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নভেম্বরের মধ্যে শুরু না করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক র‌্যাপটিয়ার ইয়াংহি লী’র বিবৃতি উল্লেখ করে বুধবার (৭ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে একথা জানায় ভয়েস অব আমেরিকা। ইয়াংহি লী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য এখনো সঠিক সময় আসেনি, কাজেই রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে। রোহিঙ্গা নির্যাতনে ফেইসবুকের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি।

লী বিবৃতিতে বলেন, মায়ানমার সরকার এ মর্মে নিশ্চয়তা প্রদানে ব্যর্থ হয় যে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গারা আবারো একই ধরণের নির্যাতন এবং সহিংসতার সম্মুখীন হবে না। লী আরও বলেন , প্রথমেই এই সংকটের অন্তর্নিহিত কারণের সমাধান করতে হবে যার মধ্যে রয়েছে তাদেরকে নাগরিকত্বের অধিকার দিতে হবে।

প্রতিবেদনের ফেইসবুকের মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি করা এবং সহিংসতায় ইন্ধন যোগানো বন্ধ করতে ফেইসবুক কতৃপক্ষ পর্যাপ্ত কিছু করেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ঐ প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে ফেইসবুক যেন মানবাধিকার নীতি শক্তভাবে প্রয়োগ করে। লীর এই সতর্কবাণীর আগে ফেইসবুক স্বীকার করে যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির গণহত্যার পেছনে সামাজিক মাধ্যমও ভূমিকা রেখেছিল। ৩০শে অক্টোবর দু’দেশ সম্মত হয় যে মধ্য নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হবে।

গত বছর আগস্ট মাসে এক সামরিক অভিযানের পর মিয়ানমারের দশ লক্ষ রোহিঙ্গার প্রায় তিন চতুর্থাংশই রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে যায় । শরনার্থী এবং সাংবাদিকরা ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ এবং গ্রামের পর গ্রামে অগ্নিসংযোগের বিবরণ তুলে ধরেন। পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা প্রতিবেশি বাংলাদেশে শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

গত বছর জাতিসংঘের তদন্তকারীরা ফেইসবুককে এই বলে অভিযুক্ত করে যে এই সামাজিক মাধ্যমটি সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সে দেশের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠির মনে ঘৃণা ছড়াতে ফেইসবুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে তারা অত্যন্ত ধীর ও অকার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তদন্তকারীরা বলেন, তারা এই নির্যাতনি অপরাধে ভূমিকা রেখেছে।