নাগোর্নো-কারাবাখে আর্মেনীয়-আজারবাইজানিদের তুমুল সংঘর্ষ

image

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই বিবদমান নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।

দুই পক্ষই দাবি করছে যুদ্ধে তারা এগিয়ে রয়েছে। অঞ্চলটি রাষ্ট্রীয়ভাবে আজারবাইজানের অংশ বলে স্বীকৃত হলেও তা নৃতাত্ত্বিকভাবে আমের্নীয়দের দখলে।

সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত সংঘর্ষে তাদের ৩১ জন মারা গেছে। তবে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া অনেক জায়গাই আবার পুনরুদ্ধার করা গেছে।

আর আজারবাইজানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আর্মেনীয়দের নিক্ষিপ্ত গোলায় ২৬ বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এর আগে তারা পাঁচজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল।

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া উভয়ের পক্ষ থেকেই সাংঘর্ষিক অঞ্চলগুলোতেই বিক্ষোভ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি জায়গা সামরিক আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

বিবিসি জানাচ্ছে ২০১৬ সালের সংঘর্ষের পর এবারেরটিই সবচেয়ে মারাত্মক আকারের সংঘর্ষ। সে সময় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছিল।

উভয় দেশের মধ্যে সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতার আহবান জানানো হয়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ককেশিয় এই অঞ্চলের লড়াইয়ে বড় শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্ক ইতোমধ্যেই আজারবাইজানকে সমর্থন দিয়েছে।

আর রাশিয়া অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছে। আর্মেনিয়ায় রাশিয়ার সামরিক ঘাটি আছে।

প্রসঙ্গত, নাগোর্নো-কারাবাখ সংঘাত পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো সংঘাতগুলোর একটি। ১৯৯০ দশকের শুরুতে নাগোর্নো-কারাবাখ যখন আজারবাইজান থেকে বেরিয়ে আসে, তখন আজারবাইজানের সঙ্গে ব্যপক যুদ্ধ হয় এখানকার সংখ্যাগুরু আর্মেনীয়দের। আর নৃতাত্তিক আজারবাইজানিদের মধ্যে যারা এখানে বসবাস করে আসছিল তারা সেখান থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিল।

এখন এটি কার্যত স্বাধীন অঞ্চল। আর্মেনিয়ার সাহায্য পেয়ে থাকে তারা। তবে জাতিসংঘের কোনো সদস্য, এমনকি আর্মেনিয়াও তাদের স্বীকৃতি দেয়নি।