নিউইয়র্কে ইহুদি যাজকের বাড়িতে চাপাতি হামলায় আহত ৫

image

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য চালানো চাপাতির হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর শনিবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের উত্তরাঞ্চলীয় মনসে শহরের এক ইহুদি যাজকের বাসায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে এ হামলা চালানো হয়। ওই সময় হামলাকারীর চাপাতির আঘাতে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় হাসিদিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য জানা যায়নি। নিউইয়র্ক টাইমস, ডেইলি মেইল।

সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্ক থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে রকল্যান্ড কাউন্টির হাডসন উপত্যকার শহর মনসের ইহুদি ধর্মযাজক চাইম লিইবাশ রোটেনবার্গের বাড়িতে হনুক্কা উৎসব (জেরুজালেমে দ্বিতীয় মন্দির পুনর্নির্মাণ স্মরণে করা ইহুদিদের আলোর উৎসব) চলাকালে আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে চাপাতি দিয়ে এ হামলা চালানো হয়। ওই সময় যাজক রোটেনবার্গ সপ্তম হানুক্কা উৎসবের মোমবাতি জ্বালানোতে ব্যস্ত ছিলেন। রোটেনবার্গ মনসের ধর্মসভা নেটযাক ইয়েসরায়েল কোজনের নেতা। এদিকে এ হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে হাডসনের ওজেপিএসি’র (যুক্তরাষ্ট্রের অর্থডক্স জিউস পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের) সহপ্রতিষ্ঠাতা ইয়োসি গেসটেটনার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, হামলার সময় বাড়িটিতে অনেক মানুষ ছিল। ৬৫ বছর বয়সী অ্যারোন খোন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি আমার জন্য প্রার্থনা করছিলাম। হামলাকারী দরোজা দিয়ে প্রবেশ করে ডান পাশ দিয়ে হামলা শুরু করে। তাদের প্রতিহত করার মতো সময় আমরা পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, উপাসনালয় সিনাগগের দরোজা দিয়েও সে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তবে ভেতরের লোকজন দরোজা বন্ধ করায় সে প্রবেশ করতে পারিনি। এদিকে ওজেপিএসি’র পক্ষ থেকে এক টুইটবার্তায় জানানো হয়েছে, আহতদের একজন কমপক্ষে ছয়বার হামলার শিকার হয়েছেন। হামলার একদিন পর রোববার (২৯ ডিসেম্বর) নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, ইহুদিবিরোধী হুমকি ও হামলার পর ওইসব এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কিউমো এক বিবৃতিতে এমন হামলাকে ঘৃন্য ও কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যে কোন ধরনের ধর্মান্ধতা ও ইহুদি বিদ্বেষ আমাদের বৈচিত্র্যময় মূল্যবোধের সঙ্গে বেমানান। আমরা এমন ঘৃণ্য কর্মকা-ের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা (জিরো টলারেন্স) অবস্থানে আছি। এর পাশাপাশি হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস। তিনিও এক টুইটবার্তায় লিখেছেন, এমন ঘৃন্য কাজের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে আমাদের প্রশাসন। আর নিউইয়র্কের পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।