পুনর্নির্বাচিত হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট উইদোদো

image

একদিনে অনুষ্ঠিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্বাচনে ১৭ এপ্রিল বুধবার ভোট দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার ভোটাররা। বুধবার দেশটিতে একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট, সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১টায় শেষ হয়। ইন্দোনেশিয়ার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর সাবেক জেনারেল প্রবোয়ো সুবিয়ান্তো। ভোট গণনা শেষে বুথ ফেরত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট উইদোদো তার প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১৯২ মিলিয়ন (১৯.২ কোটি) নিবদ্ধিত ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নির্বাচনে ২০ হাজারের বেশি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আসনে প্রায় দুই লাখ ৪৫ হাজার প্রার্থী লড়েছেন। আগামী মে মাসে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় নির্বাচন শুরু হওয়ার ছয় মাস আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলো। এ নির্বাচনকে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল এক দিনের নির্বাচনগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে অস্ট্রেলিয়ার থিংক-ট্যাংক দ্য লয়ি ইন্সটিটিউট। প্রেসিডেন্ট উইদোদো এক সময় আসবাবপত্র বিক্রেতা ছিলেন। বিশ্বজুড়ে যিনি জোকোবি নামে পরিচিত। একটি শহরের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন উইদোদো। এর আগে, ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় দারিদ্র্য, স্বজনপ্রীতি ও অসহিষ্ণুতা দূর করার প্রতিজ্ঞা দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। এ সময় তিনি দুর্নীতিবিরোধী এবং ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে অভিহিত হন। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তিনি তার প্রতিজ্ঞা পূরণে যথেষ্ট সফল হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুবিয়ান্তো দেশটির ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তিনি তিন দশক ইন্দোনেশিয়া শাসন করা সাবেক একনায়ক জেনারেল সুহার্তোর মেয়েকে বিয়ে করেন। সুহার্তোর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু তিনি নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন। ১৮ হাজার দ্বীপের দেশটিতে একদিনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টসহ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের মোট ১৩৬টি সদস্য পদ এবং নিম্নকক্ষের আরও প্রায় ৫৭৫টি পদের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে অন্তত দুই হাজার ২০৭ জন প্রাদেশিক সদস্য ছাড়াও মোট ১৭ হাজার ৬১০টি স্থানীয় কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে অংশ নেয় মোট ১৬টি রাজনৈতিক দল। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় দুই লাখ ৪৫ হাজারের বেশি প্রার্থী।