পোল্যান্ডে আরও এক হাজার সেনা মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র

image

সংবাদ সম্মেলনে আনজেই দুদা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প-রয়টার্স

রুশ ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলায় পোল্যান্ডে আরও এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ১২ জুন বুধবার হোয়াইট হাউজে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আনজেই দুদাকের সঙ্গে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন ট্রাম্প। রয়টার্স, বিবিসি।

পোল্যান্ডে কমিউনিজমের পতনের ৩০তম বার্ষিকী ও ন্যাটোয় পোল্যান্ডের সদস্যপদের ২০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন প্রেসিডেন্ট দুদা। বুধবার ট্রাম্প ও দুদা দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক এক যৌথ ঘোষণায় সই করার পর হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সেনা মোতায়েনের ওই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপর এ দুই শীর্ষ নেতা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন কৌশল প্রত্যক্ষ করেন। পোল্যান্ডে সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে রাশিয়াকে দূরে রাখতে ওয়ারশ অনেকদিন ধরেই ওয়াশিংটনের কাছে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আবেদন জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পোল্যান্ডে নতুন করে যে মার্কিন সেনাদের মোতায়েন করা হবে তাদের জার্মানি থেকে সেখানে পাঠানো হবে। পাশাপাশি ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) ও অন্য সব সামরিক সরঞ্জামও পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো বাহিনীর অংশ হিসেবে বর্তমানে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে নতুন সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিলেও পোল্যান্ডে একটি স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান ট্রাম্প। এ ধরনের একটি ঘাঁটি বানাতে ওয়ারশ দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার কথা জানিয়ে তার দেশে স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি করার প্রস্তাব দেন পোলিশ প্রেসিডেন্ট। ওই ঘাঁটিকে ‘ফোর্ট ট্রাম্প’ বলেও ডাকা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জবাবে এ প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব আগ্রহী’ বলে জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু স্থায়ী মার্কিন ঘঁাঁটির বিষয়ে কোন প্রতিশ্রুতি দেয়া থেকে বিরত থাকেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিলে রাশিয়া প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে-এমন সম্ভাবনার কারনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দুদার প্রস্তাব এড়িয়ে গেছেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

ওয়াশিংটন থেকে দুদার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, নেভাদা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার কথা। সেখানে জ্বালানি ও প্রযুক্তি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও রয়েছে।