প্যারিসে গলা কেটে হত্যা ইসলামী জঙ্গীর কাজ: ফরাসি প্রেডিডেন্ট

image

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, প্যারিসে স্কুল শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা ইসলামী জঙ্গীদের কাজ। ফ্রান্সের রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাংশের একটি উপশহরীয় এলাকা কনফ্ল্যান্স-সেইন্ট-হনরাইনে ওই ঘটনা ঘটে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষক স্কুলে তার ছাত্রদের হযরত মুহাম্মদ (স:) এর একটি বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন। ওই শিক্ষকের হত্যাকারী পরে পুলিশের গুলিতে মারা যায়।

নিহত শিক্ষকের পরিচয় প্রকাশ না করে ম্যাখোঁ বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার শিক্ষা দিতে গিয়েই প্রাণ দিতে হলো তাকে।

“তবে জঙ্গীরা কখনোই সফল হবে না, আমরা ব্যবস্থা নেবো,” ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘোষণা দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

ওই শিক্ষকের স্কুলের কাছেই একটি রাস্তায় স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশের গুলিতে মারা যায় ছুরি হাতে উদ্যত আক্রমণকারী। তার পরিচয় প্রকাশ না করলেও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সে চেচেন বংশোদ্ভুত। ১৮ বছর বয়স।

হযরত মুহাম্মদ (স:) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের পর ২০১৫ সালে প্যারিসের শার্লি এবদো পত্রিকা অফিসে চালানো জঙ্গী হামলার ঘটনা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। মাত্র তিন সপ্তাহ আগেই সেখানে আবার হামলা করে এক ব্যক্তি। পত্রিকার অফিসের সামনে চালানো ওই হামলায় দুই ব্যক্তি আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ফরাসি পুলিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, তারা আক্রমণকারীকে ঘটনার সময় আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার করতে শুনেছেন। তারপর সে পালাতে থাকে। স্থানীয়দের খবর দিলে তৎক্ষণাৎই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পরে পার্শ্ববর্তী এরানি এলাকায় তার মুখোমুখি হয় পুলিশ। তাকে আত্মসমর্পণের আহবান জানালে পুলিশকেও মারার হুমকি দেয় সে।

এখন ঘটনাস্থলে বেষ্টনি দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ঘটনার পর নয়জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন রয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্ক। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হামলাকারী যুবকের আত্মীয়রা ছাড়াও ওই স্কুলের এক ছাত্রের অভিভাবকেরাও রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ফরাসি পুলিশ জনসাধারণকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিক্ষক ইতিহাস ও ভূগোল পড়াতেন। স্কুলে একদিন তিনি শার্লি এবদো হামলার প্রসঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতেন। তা নিয়ে স্থানীয় মুসলমানেরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে থাকে।

আরো জানা যায়, যদি ছাত্রদের কেউ তার কথায় আহত বোধ করে থাকে, তাদের ক্লাস থেকে চলে যাওয়ারও সুযোগ দিয়েছিলেন ওই শিক্ষক। কিন্তু এ মাসের শুরুতে ক্লাসে শার্লি এবদোর কার্টুন দেখানো নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন কয়েকজন মুসলমান ছাত্রের অভিভাবক।

নিহত শিক্ষক সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নর্দিন শাউয়াদি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, আমার ছেলের মতে তিনি অসম্ভব দারুণ মানুষ ছিলেন, চরম বন্ধুর মতো, আর চরম উদার।

শুক্রবারের এই ঘটনার পর শার্লি এবদো ম্যাগাজিন তাদের টুইটে লিখেছে, অসহিষ্ণুতা আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে আমাদের দেশে জঙ্গীবাদ কোনো কিছু দিয়েই ঠেকানো যাচ্ছে না।