ফুকুশিমায় পারমাণবিক দুর্ঘটনা : ৮ বছর পর অব্যাহতি পেলেন তিন কর্মকর্তা

image

ফুকুশিমায় পারমাণবিক দুর্ঘটনায় পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের অবহেলার দায় থেকে সাবেক তিন নির্বাহী কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়েছে জাপানের একটি আদালত। ২০১১ সালে সুনামির আঘাতে টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো) পরিচালিত এই পারমাণবিক প্লান্টটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে প্রায় ১৮ হাজার পাঁচশ’ মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হয়। সরিয়ে নেয়া হয় হাজার হাজার মানুষ। ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার টোকিও’র আদালতে টেপকো’র সাবেক চেয়ারম্যান সুনেইশা কাতসুমাতো, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাকায়ি মুতো এবং ইসিরো তাকেকুরোকে পেশাদার অবহেলায় মৃত্যু ও আহত হওয়ার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

১৯৮৬ সালে চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বড় পারমাণবিক দুর্ঘটনা বিবেচনা করা হয় ফুকুশিমার ঘটনাকে। সুনামির আঘাতের পর টেপকো পরিচালিত প্লান্টটি থেকে তিন দফায় পারমাণবিক জ্বালানি গলে যায়। এতে সরাসরি আক্রান্ত হয়ে একজনও মারা না গেলেও বহু ক্ষতিপূরণ দাবির মুখে পড়ে টেপকো। দুর্ঘটনার পর দায়ের হওয়া অপরাধ সংক্রান্ত একমাত্র মামলায় টেপকোর শীর্ষ তিন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার অব্যাহতি পেয়েছেন। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদ- হতে পারতো। শুনানিতে প্রসিকিউটররা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সাবেক এই কর্মীদের সুনামির ঝুঁকি বোঝা উচিত ছিল এবং যেসব তথ্য তাদের হাতে ছিল সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। সাবেক ওই নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয় তার সঙ্গে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪০ জন রোগীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব রোগীকে প্লান্ট এলাকা থেকে সরিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে তারা মারা যান। একটি বিচার বিভাগীয় প্যানেল এই তিন কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করার রায় দেয়ার পর ২০১৭ সালের জুনে শুরু হয় এই বিচার। এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারার সম্ভাবনা খুবই সামান্য বলে আগেও সতর্কতা প্রকাশ করেছিলেন প্রসিকিউটররা।

২০১১ সালে ফুকুশিমার বিপর্যয়ের পর জাপানের সব পারমাণবিক প্লান্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পারমাণবিক মনোভাব জোরালো হওয়া সত্ত্বেও তারপর কয়েকটি প্লান্ট বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উত্তীর্ণ হয়ে কাজ শুরু করেছে।