ফের রক্তাক্ত ফ্রান্স, নিসে ছুড়ি হামলায় নিহত ৩

image

ফ্রান্সের নিসের গির্জার কাছে ছুরি হামলায় তিনজন নিহত এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। কাতার ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নিস শহরের নটরডেম গির্জার কাছে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি।

নিস-এর মেয়র ক্রিটিয়ান এস্ট্রোসি সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটকের কথা জানিয়েছেন। তিনি এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও হামলাকারীর উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয় বলেন জানান মেয়র।

এস্ট্রোসি বলেন, “এই হামলায় নৃশংসতার ধরন ফরাসি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি হত্যার মতোই ভয়ানক। হত্যাকান্ডের শিকার একজনকে প্যাটির মতোই শিরোচ্ছেদ করা হয়েছে।“

আল জাজিরা জানায়, নিস শহরে এই হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। নটরডেম গির্জার আশেপাশের সকল রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হামলাকারীকে আটকের পর থেকে পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স বলেন, “এই বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকান্ডে আমরা স্তম্ভিত। এমন নৃশংস হামলা ঠেকাতে ফ্রান্সের সকল অঞ্চলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা কার্যকর করা হবে।“

এ ঘটনায় করণীয় নিয়ে জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে চলতি মাসেই প্যারিসের পশ্চিম শহরতলি সেন্ট-হনোরিনে মাথা কেটে খুন করা হয়েছিল স্যামুয়েল প্যাটি নামক এক শিক্ষককে। ক্লাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা শেখাতে নবী মুহাম্মদ (স:) এর কার্টুন দেখানোর পর থেকে হুমকির ভেতরে ছিলেন ইতিহাস ও ভূগোলের শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি। কিছু মুসলিম অভিভাবক তাকে অপসারণের জন্য আন্দোলন করছিলেন। স্থানীয় একজন ইমামের নেতৃত্বে অনলাইনে এই নিয়ে প্রচারণাও চলছিল। পুলিশের ভাষ্যমতে, সন্দেহভাজন ঐ হত্যাকারী মুসলিম তরুণ ৬০ মাইল দূরের এক শহর থেকে এসে ঐ শিক্ষককে খুঁজে বের করে ছুরি দিয়ে হত্যার পর তার শিরশ্ছেদ করে।

এরপর ফরাসী রাষ্ট্রপতি ইমমানুয়েল ম্যাখ্রোঁর ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে করা বক্তব্যে ফ্রান্স ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেই নিসে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলো।

ফ্রান্সের নিস শহরে এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এই হত্যাকান্ডকে বর্বরোচিত উল্লেখ করে ফ্রান্সকে সমবেদনা জানান। নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফ্রান্সের পাশে আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জার্মানির চান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের পাশে থাকার ঘোষণা দেন এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে নিসের এই হতাহতের ঘটনাকে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার উপর আঘাত বলে বিবৃতি দেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার ঘটনাকে ‘পাশবিক’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্সের নিস শহর সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। গত ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই এক তিউনিসীয় নাগরিক জনমানুষের ভিড়ের মধ্যে ট্রাক চালিয়ে দিয়েছিলেন। এই হামলার ঘটনায় ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।