বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহার হংকংয়ের

image

চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রত্যর্পণের সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে হংকংয়ের আইনসভা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) হংকং পার্লামেন্টের নেয়া এমন পদক্ষেপে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির একটি পূরণ হলো। রয়টার্স, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান।

তবে এতে চীনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে প্রায় ৫ মাস ধরে চলা অস্থিরতার অবসান না হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনীতি বিশ্লেষকদের। আন্দোলনকারীদের আরও চারটি দাবির মধ্যে আছে- এতদিন ধরে চলে আসা প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘দাঙ্গা’ হিসেবে অভিহিত না করা, গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ক্ষমা, বিক্ষোভে পুলিশি বর্বরতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সর্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। ৪ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ আন্দোলনে প্রতিবাদকারীরা চীন-শাসিত বিশেষ প্রশাসনিক এ অঞ্চলটির অসংখ্য সরকারি ভবন ভাঙচুর করেছে ও পুলিশের দিকে পেট্রলবোমা ছুড়েছে। সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কিত যে বিলটিকে ঘিরে এ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতে চীনের মূলভূখ-, ম্যাকাউ কিংবা তাইওয়ানে কোন মামলায় অভিযুক্ত হংকংয়ের বাসিন্দাদের সেখানে বহিঃসমর্পণের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়। বিলটি আইনে পরিণত হলে, হংকংয়ের বাসিন্দারা চীনের ‘নির্বিচার আটক ও অন্যায় বিচার ব্যবস্থার’ জালে আটকা পড়ত বলে আশঙ্কা ছিল সমালোচকদের। তুমুল আন্দোলনের মুখে শহরটির প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বিলটি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে পারেননি। ‘পাঁচ দাবি, একটিও কম নয়’ স্লোগানে বিক্ষোভকারীরা তাদের আকাক্সক্ষার কথা বারবারই জানিয়ে এসেছে।

এদিকে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। অঞ্চলটিতে টানা বিক্ষোভের জেরে এমন সিদ্ধান্তের পথে পা বাড়াচ্ছে বেইজিং। বুধবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে এ তথ্য জানায় একাধিক সংবাদ মাধ্যম।

যদিও এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ের দিকে লাম নিজ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় ‘সবুজ সংকেত’ না মেলায় তার ইচ্ছে অপূর্ণই থেকে যায়। হংকংয়ে টানা আন্দোলন-সহিংসতার পর তাকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এলো। এর মাধ্যমে চীন হংকংয়ের ওপর আরও বেশি কর্তৃত্ব জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যারি লামকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে চীন। তার পরিবর্তে হংকংয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী হিসেবে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। যদি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং লামকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সম্মতি জানান তবেই বিষয়টি আলোর মুখ দেখবে। সেক্ষেত্রে আগামী বছরের মার্চে ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ প্রধান নির্বাহীকে নিয়োগ দেয়া হবে। ওই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী ২০২২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ক্যারি লামের মেয়াদ পূর্ণ করবেন।

হংকংয়ে ব্যাপক আন্দোলনের জেরে এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে লাম বেইজিংয়ের কাছে পদত্যাগের আবেদন করেন। সে সময় কর্তৃপক্ষ তাকে স্বপদে বহাল থাকার জন্য চাপ দেয়। ফলে পদত্যাগের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তবে পরে চীন এবং হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ উভয়েই লামের পদত্যাগের ইচ্ছের বিষয়টি অস্বীকার করে। এর আগে হংকংয়ে প্রথম চীনা প্রধান নির্বাহী তং চিয়ান হুয়া ২০০৫ সালে পদত্যাগ করলে তার পরিবর্তে ডোনাল্ড সাং মেয়াদ পূর্ণ করেন। পরে ২০০৭ সালে সাং প্রধান নির্বাহী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পান। এদিকে লামের পরিবর্তে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন নরমান চান। যিনি এর আগে হংকংয়ের আর্থিক কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। এর পাশাপাশি নাম শোনা যাচ্ছে হেনরি থাঙ নামের অপর একজনেরও। যিনি এর আগে অঞ্চলটির ফিন্যান্সিয়াল সেক্রেটারি এবং প্রশাসনের চিফ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।