বিভিন্ন দেশে লকডাউন

image

বৈশ্বিক মহামারীর রূপ নেয়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৯টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ২১৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৮শ’ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৫ হাজার ৮২৪ জন।

বিস্তার ঠেকাতে আগামী দু’দিনের মধ্যে অবরুদ্ধ (লকডাউন) হতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডান বলেছেন, খুব শীঘ্রই নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি অত্যাবশ্যক নয়। তবে দেশের সব স্কুল ও সরকারি- বেসরকারি কার্যালয় বন্ধ করা হবে। এদিকে করোনার নিয়ে যেখানে পুরো ইউরোপ দুর্যোগকালীন সময় পার করছে সেখানে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে ক্রোয়েশিয়াতে আঘাত হেনেছে ভূমিকম্প। ২২ মার্চ রোববার সকালে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে পনেরো বছর বয়সী একজনের মৃত্যু ও কয়েকজন আহতের খবরও প্রকাশিত হয়েছে দেশটির বেশ কিছু গণমাধ্যমে। এছাড়াও এতে বেশ কিছু স্থানে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতিও হয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডসে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০২ জন। এদের সবাই চিকিৎসাধীন।

দেশটিতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। করোনা মোকাবিলায় দেশটি সরকারের নেয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানাতে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে করেন প্রধানমন্ত্রী আর্ডান। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডস এখন স্বেচ্ছা-বিচ্ছিন্ন (সেল্ফ-আইসোলেশন) হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত সপ্তাহেই পূর্ব-সতর্কতা হিসেবে বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিউজিল্যান্ডস। আর্ডান জানান, সব বার, রেস্তোরাঁ, জিমনেশিয়াম, সিনেমা হল, সুইমিং পুল, জাদুঘর, খেলার মাঠ ও যেখানে মানুষের মুখোমুখি দেখা হয় এমন সব স্থান ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে। তবে সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, হাসপাতাল, জরুরি সেবা ও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। কিউই এ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজ থেকে দেশের সব স্কুল বন্ধ থাকবে। অপরদিকে করোনা মহামারীর আতঙ্কের মধ্যেই ক্রোয়েশিয়াতে রোববার সকালে আঘাত হানে ভূমিকম্প। এদিন (রোববার) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ক্রোয়েশিয়াসহ আশপাশের দেশ বসনিয়া, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া এবং স্লোভেনিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪-এর কাছাকাছি। এ ভূকম্পনের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়াতে মৃদু মানের আরও দুটি ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কিছু এমরদেহায় অগ্নিকা-ের খবরও শোনা গেছে।

এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেব থেকে ৫ দশমিক ৮ মাইল উত্তরে। এতে দেশটির বেশ কিছু স্থানে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ভূমিকম্পের ফলে ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবের বেশ কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন ভবনে ফাঁটল দেখা দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। এবং একই সঙ্গে দেয়াল ধস ও বেশ কিছু যানবাহনের ক্ষয়-ক্ষতির হয়েছে। এমনকি জাগরেবের বিখ্যাত ক্যাথেড্রালের দুটি চূড়াও এ ভূমিকম্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, ক্রোয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন কিছু বলা হয়নি আনুষ্ঠানিকভাবে। এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ক্রোয়েশিয়াও অনেকটাই অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানগুলোতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে একসঙ্গে পাঁচজনের অধিক মানুষের সমাগম না হওয়ার জন্য দেশটির প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই নিজ বাড়িতে বসেই অনেকে এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি হওয়া আশেপাশের বিভিন্ন স্থানের কিংবা নিজের বাসার ভেঙে যাওয়া গ্লাস বা বিভিন্ন ধরনের শেলফের ছবির পাশাপাশি ভিডিও ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে শেয়ার করেছেন।

৫ দশমিক ৪ মাত্রার এ ভূকম্পনের পাশাপাশি দেশটিতে মৃদু মানের আরও দুটি ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর ফলে ক্রোয়েশিয়াসহ পার্শ্ববর্তী দেশ স্লোভেনিয়া, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া বা বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার অনেক আতঙ্ক বিরাজ করছে।