বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী সানা ম্যারিন

image

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন ৩৪ বছর বয়সী সানা ম্যারিন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী পেলো উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। একই সঙ্গে দেশটির তৃতীয় নারী হিসেবে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পেলেন ম্যারিন। চলতি সপ্তাহেই তিনি শপথ নিতে যাচ্ছেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।

৮ ডিসেম্বর রোববার ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এ নেতা। এর আগে দেশটির পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন তিনি। গত ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এক আস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা অ্যান্তি রিনে। মাত্র ছয় মাস আগেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন রিনে। কিন্তু সম্প্রতি ডাকবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মঘট মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে দলের আস্থা হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর রোববার দলীয় নেতাদের মধ্যে ভোটাভুটিতে নির্বাচিত হন ম্যারিন। নারীদের নেতৃত্বে থাকা পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি মধ্য-বাম ধারার কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্ব দিবেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর ম্যারিন বলেন, নতুন করে আস্থা তৈরি করতে অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ফিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে নিজ শহর ত্যামপেরে’র কাউন্সিল প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন ম্যারিন। এরপর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত উন্নতি করতে থাকেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছেন।

কমবয়সী সরকার প্রধানদের মধ্যে এ মূহুর্তে আছেন নিউজিল্যান্ডের ৩৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডান এবং ইউক্রেনের ৩৯ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী ওলেকসি হোনচারুক। খুবই অল্প ভোটের ব্যবধানে আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে মিস ম্যারিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আস্থা পুনর্গঠনে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে’। তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন ছিলো সাংবাদিকদের তরফ থেকে কিন্তু সেটি তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমি কোনোদিন আমার বয়স বা লিঙ্গ নিয়ে ভাবিনি। আমি যে কারণে রাজনীতিতে এসেছি তা নিয়েই ভেবেছি এবং সে কারণেই আমাকে ভোট নিয়ে নির্বাচিত করেছে মানুষ’।

গত এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে তার দল বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয় আর সে কারণেই তার দল প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দিতে পারে যিনি কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্ব দিবেন। ফিনিশ ব্রডকাস্টার ওয়াইএলই’র তথ্য অনুযায়ী সানা ম্যারিন সিঙ্গেল মায়ের সন্তান। তার পরিবারে তিনিই প্রথম যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, ফিনল্যান্ড এ মূহুর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে আছে।