ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্থগিত : বরিসের পদক্ষেপে যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

image

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সম্মতি নিয়ে পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় আগামী সপ্তাহে অনাস্থা ভোটের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করার জন্য রানীর কাছে আবেদনের পর বুধবার তা অনুমোদন করেন রানী। এরপরই গুঞ্জনকে সত্যি করে পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন বরিস জনসন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ব্রেক্সিট (চুক্তিবিহীন) কার্যকর করার পথ সুগম করতেই প্রধানমন্ত্রী বরিস এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট কার্যকরের ক্ষেত্রে একমাত্র ‘পথের কাঁটা’ হিসেবে পার্লামেন্টকে নিষ্ক্রীয় করে আগামী ৩১ অক্টোবর যেকোনভাবে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে চান তিনি। রীতি অনুযায়ী, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথও সরকারের এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট প্রতিরোধ করতে আইন অনুমোদনের প্রচেষ্টার এক দিন পরই তিনি এমন পদক্ষেপ নিলেন, যাতে ব্রেক্সিটের সময় পর্যন্ত পার্লামেন্টের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। অধিবেশনের সময় কমিয়ে আনার মধ্য দিয়ে তিনি পার্লামেন্ট সদস্যদের পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার পথ কার্যত বন্ধ করে দিলেন। এমন পরিস্থিতিতে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় থাকবে। আগামী সপ্তাহে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পার্লামেন্ট মুলতবি রাখা হবে। ১৪ই অক্টোবর রানী এলিজাবেথের ভাষণের মাধ্যমে আবার অধিবেশন শুরু হবে। ফলে সময় নষ্ট না করে দেশটির বিরোধী দলগুলো আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বরিসের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ও চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় পুরো যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন দেশটির সাধারণ নাগরিকরাও। বিতর্কিত এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, এডিনবরা ও অন্যান্য শহরেও। কয়েক হাজার নাগরিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এসংক্রান্ত একটি পিটিশনে ১০ লাখেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিক সই করেছেন বলে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে। ওই পিটিশনে ২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিক সই করেছেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭-১৮ অক্টোবর-এ দু’দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।