ব্রেক্সিট ইস্যুতে কোণঠাসা জনসন

image

ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিজস্ব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিসন জনসন। এদিকে ইইউ ব্রেক্সিটের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে বরিসের আগাম নির্বাচন বানচাল করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। এর আগে তিন বার আগাম নির্বাচনের প্রচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন জনসন। বিবিসি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যেও আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরা। আগামী ১২ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় ২৮ অক্টোবর সোমবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে জনসনের প্রস্তাবের পক্ষে ২৯৯ ভোট ও বিপক্ষে ৭০ ভোট পড়ে। কিন্তু ফিক্সড-টার্ম পার্লামেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, এ প্রস্তাব পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার ছিল বলে জানা গেছে।

এদিনের প্রস্তাবের পক্ষে অন্তত ৪৩৪টি ভোট প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের (কনজারভেটিভ পার্টি) সব সদস্য ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট সদস্যদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও তা যথেষ্ট হয়নি। লিব ডেমের ওই সদস্য বিপক্ষে ভোট দেন। এদিকে বিরোধী লেবার দলের অধিকাংশ সদস্যই ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। এসএনপি ও ডিইউপি দলের সদস্যরাও ভোটে অংশ নেননি। ভোটের পর জনসন জানিয়েছেন, এমন একটি আইনি পথে তিনি আবার চেষ্টা করবেন যেখানে শুধু সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হলেই চলবে, আগের মতো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে না। কিন্তু এটি করতেও লিব ডেম ও এসএনপির সমর্থন জনসনকে পেতে হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ১২ ডিসেম্বরের আগাম নির্বাচনের জন্য হাউজ অব কমন্সের সমর্থন পেতে জনসন মঙ্গলবার ফের চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমপিদের জনসন বলেছেন, পার্লামেন্ট ‘অকার্যকর’ হয়ে আছে এবং ‘দেশকে আর জিম্মি করে রাখতে পারে না’; এর জবাবে বিরোধী দল লেবার বলেছে, প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করা যায় না। জনসন ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রস্তাব গ্রহণ করার পর এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এসএনপি এবং লিব ডেম দলও ৯ ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে। পার্লামেন্ট জনসনের প্রস্তাব অনুমোদন করলে যুক্তরাজ্য পরের মাসের ১ তারিখে, পহেলা ডিসেম্বরে কিংবা ১ জানুয়ারিতেও ইইউ ত্যাগ করতে পারত। ব্রেক্সিটের জন্য আগের নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ অক্টোবর থেকে পিছিয়ে না দিতে সব সময় অটল ছিলেন জনসন। কিন্তু গত মাসে পার্লামেন্টে বিরোধীদের পাস করা একটি আইন অনুযায়ী ব্রেক্সিটের চূড়ান্ত সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি (২০২০) পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করে ইইউয়ের কাছে চিঠি পাঠাতে বাধ্য হন তিনি।

ইইউ এ অনুরোধই রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। ফলে পরিকল্পনামাফিক ৩১ অক্টোবরে (বৃহস্পতিবার) ব্রেক্সিট আর সম্পন্ন করতে পারছে না যুক্তরাজ্য। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ডেভিড সাসোলি ব্রেক্সিটের সময় বাড়ানোকে ‘ইতিবাচক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে করে যুক্তরাজ্য কি চায় তা পরিষ্কার করে জানানোর সময় পেল।