মানবসৃষ্ট মরুভূমি!

image

পৃথিবীর প্রায় তিন ভাগ এলাকা মরুভূমি। কিন্তু অবহেলা আর বন উজাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে উর্বর ভূমি, নতুন করে মরুভূমিতে রূপান্তর হয়ে যাচ্ছে বহু এলাকা। প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার মরুভূমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। যা আয়ারল্যান্ডের আয়তনের সমান।

উর্বর ভূমিকে মরু এলাকায় রূপান্তরের নাম মরুকরণ। মানুষের অপরিকল্পিতভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার ফলেই অধিকহারে মরুকরণের সৃষ্টি হচ্ছে। পৃথিবীর ৭০শতাংশ উষ্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে রয়েছে এমন প্রবণতা। জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড এর হিসাব অনুযায়ী, আফ্রিকার ৪০ শতাংশ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করেন, যা মরুকরণের হুমকির মুখে রয়েছে। আর এশিয়া আর দক্ষিণ আমেরিকায় এ সংখ্যা যথাক্রমে ৩৯ ও ৩০ শতাংশ। জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের মতো দেশও আছে ঝুঁকির মধ্যে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি মরু এলাকা বাড়ার একটি কারণ। যেমন- চীনের ভূমি ব্যবহার হয় মানুষের খাবার নিশ্চিতের জন্য। শেষ উদ্ভিদটি পর্যন্ত খাওয়ার জন্য কৃষকেরা পশুপালন করে থাকে। মাটি আলগা হয়ে যায় এবং ক্ষয়ে যায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে। এভাবে চীনে প্রতি বছর আড়াই হাজার বর্গ কিলোমিটার মরুভূমি তৈরি হয়। ব্যর্থ অর্থনৈতিক নীতি কারণে মরুভূমির রূপ ধারণ করেছে কাজাখাস্তান ও উজবেকিস্তান সীমান্তের হ্রদ ‘উরাল সি’। এক সময় চতুর্থ সর্ববৃহৎ এই হ্রদের অল্প একটা অংশ অবশিষ্ট আছে। সোভিয়েত আমলে দুই দেশই তুলা ক্ষেতের জন্য এখানকার বড় অংশের পানি ব্যবহার করে ফেলে। মাছ ধরার নৌকা তাই আটকে থাকে সেই ‘সাগর’ এর মাঝে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও মরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পর্যটকের আবাসন নিশ্চিত করতে স্পেনে কিছু এলাকার বন পুরোপুরি উজাড় করা হয়। এর মধ্যে মাদ্রিদের গুয়াদালাজারা এলাকা বড় রকমের হুমকির মুখে রয়েছে। মরুকরণের ফলে পানি আর চাষের জমির সংকট তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বহু এলাকায় ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। জিআইজেড হিসাবে আফ্রিকার ৪৮৫ মিলিয়ন মানুষ মরুকরণের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে ওই এলাকার ৬০ মিলিয়ন লোক মরুভূমি ছেড়ে যাবে বলে জানাচ্ছে জাতিসংঘ। মরুকরণের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বিভিন্ন দেশ।