মার্কিন সামরিক বাহিনীকে হংকংয়ে ঢুকতে বাধা বেইজিংয়ের

image

হংকংয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রণতরীর প্রবেশ স্থগিত করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি মার্কিন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন চীন। তবে হংকং ইস্যুতে চীনের হুঁশিয়ারির কোন প্রতিক্রিয়া এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানায়নি হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হংকং মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার’ নামের একটি প্রস্তাবে (বিল) সই করে তাকে আইন হিসেবে অনুমোদন দেয়ার জেরে পাল্টা জবাব হিসেবে এমন পদক্ষেপ নিল বেইজিং ।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভে অচলাবস্থা বিরাজ করছে আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে। সেখানকার পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্র উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ বেইজিংয়ের। ২ ডিসেম্বর সোমবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর কোন জাহাজ বা বিমান হংকংয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। তাদের স্পষ্ট বার্তা, যুক্তরাষ্ট্র এতদিন যেভাবে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্ররোচনা জুগিয়েছে, তাতে এই মুহূর্তে ওই স্বশাসিত এলাকা (হংকংয়ে) মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঢুকতে দেয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। এর আগে একইদিন (সোমবার) ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে বেইজিং জানায়, ‘আমেরিকাকে ভুল শোধরানোর জন্য আমরা অনুরোধ করছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা গলানো বন্ধ করুক ট্রাম্প প্রশাসন। হংকংয়ের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে চীন।’ তবে হংকং নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে চলমান টানাপড়েনের প্রভাব বাণিজ্য চুক্তিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনের বারবার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও হংকংয়ের মানুষ বিক্ষোভের পথ থেকে সরে আসছে না। গত সপ্তাহের শেষ দিকে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে আবারও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে বিক্ষোভকারীদের।

প্রসঙ্গত, হংকংয়ের উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মহড়া নতুন নয়। প্রতি বছরই এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। গত এপ্রিলে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ব্লু রিজকে হংকং উপকূলে আটকে দেয়া হয়। তখনও পুরো মাত্রায় হংকং অশান্ত হয়ে ওঠেনি। এরই ধারবাহিকতায় গত আগস্টেও মার্কিন রণতরীকে হংকংয়ে প্রবেশ আটকে দেয়া হয়। এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে বাধা ও হুঁশিয়ারি দিল চীন।