মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করলেই আলোচনা - আফগান সরকারকে তালেবান

image

আগামী মাসেই তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষ। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপের একটি দেশে তালেবানের সঙ্গে সরকার আলোচনায় বসবে বলে শনিবার (২৭ জুলাই) ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির শান্তি আলোচনা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল সালাম রাহিমি। এদিকে তার এমন ঘোষণার পরদিন রোববার (২৮ জুলাই) তালেবানের পক্ষ থেকে এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না মার্কিন সরকার আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত ঘোষণা না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবেন না তারা। পাশাপাশি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তালেবানের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিবৃতিটিও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সশস্ত্র এ বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের শান্তি আলোচনা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল সালাম রাহিমি দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ ঘানির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী সালাম বলেন, তালেবানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ দলে আলেম, নারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। তবে কাতারে অবস্থিত তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তার এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে রোববার তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে তার সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন করার পরই আমরা আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারি। শাহিন আরও বলেন, বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা মাত্রই আন্তঃআফগান সংলাপ শুরু হবে।’ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সালাম আফগানিস্তান নামের এক রেডিওতে এ শান্তি আলোচনার খবর জানানো হয়। ওতে বলা হয়, জার্মানিতে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতোপূর্বে কাতারের সঙ্গে মিলে দোহায় একটি আন্তঃ আফগান সংলাপের আয়োজন করে জার্মানি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তালেবান ও আফগান কর্মকর্তারা ওতে অংশ নেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে দীর্ঘ ১৮ বছরের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শান্তির রোডম্যাপে সম্মত হয় তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র। কাতারে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তান সরকারের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এমন সম্মতি মেলে। সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক নয় এমন চুক্তিতে বেসামরিক নাগরিক হতাহত বন্ধ এবং ইসলামী কাঠামোর মধ্যে নারী অধিকার সুরক্ষায় সম্মত হয়েছে এ দুই পক্ষ (তালেবান-আফগান সরাকার)। এর পাশাপাশি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা চূড়ান্ত করতে আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

অপরদিকে কাতারে আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তালেবানের সাম্প্রতিক বৈঠককে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান বিষয়ক দূত জালমাই খলিলজাদ। শান্তির রোডম্যাপের শর্তের মধ্যে রয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কোনও প্রভাব না থাকা। ওই বৈঠক শেষে দুই পক্ষের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তান নিজ দেশের মধ্যে আর কোনও যুদ্ধ দেখতে চায় না। আর সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ চুক্তি অত্যাবশ্যক ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের হিসাব মতে, গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে সংঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৫ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৫৮১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ১২ হাজার আহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনে আফগানিস্তানে উৎখাত হয় তালেবান সরকার। তারপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটি। দীর্ঘ যুদ্ধ অবসানের পর প্রথমবারের মতো গত বছরের জুনে কাতারে তালেবান বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা চূড়ান্ত হওয়ার আগে আফগান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল তালেবান।

কেননা, আফগান সরকারকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল মনে করে। তালেবানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনার বাইরে কিছুই বলতে পারে না আফগান সরকার। ফলে তাদের সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনুরোধে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হয়েছে।