মাস্কবিরোধিতা এখন ট্রাম্পকেই হুঁল ফোটাচ্ছে

image

শুরু থেকেই মাস্ক পরার বিরুদ্ধে অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি মাস্ক পরলে আরো অনেকেই উৎসাহিত হতো। কিন্তু তিনি সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাননি। অথচ ক্রমেই করোনা প্রতিরোধে মাস্কের কার্যকারিতার প্রমাণ জোরালো হচ্ছে।

গত দুই মাস ধারাবাহিকভাবে মাস্ক পরার বিরোধিতা করেছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে। এমনকি এক সময় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি এ-ও বলেছিলেন, যারা মাস্ক পরছে, তারা যে আমাকে সমর্থন করে না এটা বোঝানোর জন্যই পরছে।

আরেকবার তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে তার মুখ ঢাকা চেহারা দেখার আনন্দ পেতে দেবেন না তিনি। এছাড়া মাস্ক না পরে বিভিন্ন জায়গায় তো তিনি ঘুরেছেনই, রাজনৈতিক সমাবেশও করেছেন।বলেছেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচার রাজা-রাণী কারো সঙ্গে বৈঠকের সময়ই তিনি মাস্ক পরবেন না। এপ্রিলে তিনি বলেন, আমি জানি না, কেন যেন মনে হয়, এটা (মাস্ক) আমার জন্য নয়।

এখন চারপাশে সবাই মাস্ক পরে থাকলেও মাস্ক ছাড়া জনসমক্ষে এসে তিনি এই ধারণা তৈরি করতে চাইছেন যে সবচেয়ে খারাপ সময়টা পেরিয়ে গেছে, এবং দ্রুতই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসছে।

এর মাধ্যমে ট্রাম্প তৃণমূল পর্যায়ে তাদের মধ্যে নিজের জায়গাটা পোক্ত করতে পেরেছেন যারা বিশ্বাস করে মাস্ক পরার মধ্যে দাসত্বের পরিচয় বহন করে এবং তাদের অধিকারকে খর্ব করে।

তবে এখন আবার নতুন করে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যা দাঁড়িয়েছে, এবং তা প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কারণে, বিশেষ করে, বুধবার আবার রেকর্ড পরিমাণ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর, মনে হচ্ছে, ট্রাম্প এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববেন।

আর যেসব রিপাবলিকান নেতার সমর্থনে ট্রাম্প আজ এতদূর এসেছেন, তারা ছাড়াও সরকারের স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজ্যে সব রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে, যারা সবাইকে অনুরোধ করে যাচ্ছেন মাস্ক পরার জন্য, ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ইতোমধ্যেই দুরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মাস্ক পরার পক্ষে মত জোরালো হচ্ছে, বিশেষ করে সরকারেরই শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ফাউচির সংক্রমণ দৈনিক লাখে যেতে পারার ঘোষণার পর।

ফাউচি বলেন, দ্রুতগতিতে বার ও জমায়েতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও উল্টো ফল দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আমরা যে কারণে মাস্ক পরা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলাম তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

তার এই বক্তব্যের পর মাস্ক নিয়ে যে বিতর্ক চলে আসছিল সেটা অনেকাংশেই মিইয়ে গেছে।

মাস্ক না পরার মধ্যে ট্রাম্প যে ধরনের শক্তি বা অদম্যতা দেখাতে চেয়েছিলেন সেটাই এখন মহামারির বিষয়ে সরকারের উদাসীনতা, স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা এবং আমেরিকানদের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে তার ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যাই হোক, সম্প্রতি ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, তিনি সবসময়ই মাস্ক ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন, এবং যেসব জায়গায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব, সেখানে তিনি মাস্ক পরেছেনও।

[ স্টিফেন কলিনসন, সিএনএন-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণ]