মৃত্যুর মিছিলে চীনকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে স্পেন!

image

ইতালির পর করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ স্পেনেও। দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর মিছিল নেমেছে যেন। হাসপাতালেও মৃতদেহ রাখার জায়গা নেই! গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৬৮০ জন মারা গেছেন। যা সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ মৃত্যু। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৯৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা এভাবে প্রতিদিন বাড়তে থাকলে দেশটি অচিরেই করোনার উৎসস্থল চীনকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিহত হয়েছেন ২৩৭৮ জন। এর মধ্যে ইতালিতেই মৃত্যু হয়েছে ৭৪৩ জনের। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হাজার ৭৬৯ জন নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৯২ জনে। অপরদিকে ১ হাজার ৮ হাজার ৮৭৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চীনের উহান শহরে ডিসেম্বর থেকে এ ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দেশটিতে এখনও পর্যন্ত ৩ হাজার ২৮১ জন মারা গেছেন। আর এতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ২১৮ জন। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ২৮১ জন। আর স্পেনে ২ হাজার ৯৯১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৯২২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৮০ জনের। চীনে মৃত্যু বন্ধ ও নতুন রোগী শনাক্ত না হওয়ায় দেশটির সংখ্যা একই রয়েছে। চীনের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ইতালির। ইউরোপের এ দেশটিতে এখনও পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ৬৯ হাজার ১৭৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৮২০ জনের। শুধু ২৪ মার্চ মঙ্গলবার ৭৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ২৪৯ জন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেশটির প্রশাসনিক অঞ্চল লম্বার্দির। অঞ্চলটিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বারগোমা শহরের। সেখানে ৬০০ জন ডাক্তারের মধ্যে ১৩৪ জনই এখন করোনায় সংক্রমিত। এরমধ্যে তিনজন ডাক্তারের মৃত্যুও হয়েছে। এদিকে চীনে অংসখ্য প্রাণনাশের পর করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত ইউরোপ। সম্প্রতি ইউরোপকে করোনার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এবার আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ কওে আন্তর্জাতিক এ স্বাস্থ্য সংস্থাটি হুশিয়ারি জানিয়ে বলেছে, ইউরোপের পর করোনার কেন্দ্র হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র।

সর্বশেষ তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৮৮১। মৃত্যু হয়েছে ৭৮২ জনের। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৭৮ জন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটনের মতো অঙ্গরাজ্যে। এমন পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউরোপ-আমেরিকায় নতুন আক্রান্তের মধ্যে ৪০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের। এ পরিসংখ্যান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জেনেভায় ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের হার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫ শতাংশ নতুন আক্রান্তই ইউরোপ ও আমেরিকায়। তার মধ্যে আবার শুধু যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ শতাংশ।’ তবে কি করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র? এমন প্রশ্নের জবাবে মার্গারেট বলেন, এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক হারে সংক্রমণ বাড়ছে। তাই কেন্দ্র হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ইতালি নিয়ে আশার আলো দেখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মার্গারেট বলেন, ‘ইতালিতে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

গত দু’দিনে নতুন আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। যদিও এখনও অত্যন্ত প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে। বলার মতো জায়গায় আসেনি।’

দেশটিতে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০ জানুয়ারি। তারপর থেকে অল্প সংখ্যায় বাড়ছিল। গত ১৭ মার্চ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০০। কিন্তু সেখান থেকে গত সপ্তাহে হঠাৎ লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। আকস্মিক এক সপ্তাহের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১০০ থেকে প্রায় ৮০০ হয়ে যাওয়ার কারণেই এমন আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এরই মধ্যে করোনা রুখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ট্রাম্প সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য একাধিক প্রদেশ লকডাউন করা হয়েছে। ট্রাম্প বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, খাবার-সহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জোগান স্বাভাবিক রাখার সব রকম চেষ্টা চলছে।