মোদি-জিনপিং বৈঠকে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে ঐকমত্য

image

শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই নিজ নিজ ধর্মীয়, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র অক্ষুণ্ন রেখে এ অঞ্চলে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে সম্মত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১১ অক্টোবর শুক্রবার ভারতের মামাল্লাপুরাম শহরে নৈশ ভোজের সময় অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে অংশ নিয়ে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে এ দুই শীর্ষ নেতা একমত হন বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলো। দ্য হিন্দু।

এর আগে দু’দিনের এক সফরে একইদিন স্থানীয় সময় দুপুর দুইটা নাগাদ তামিলনাড়ুও মামাল্লাপুরাম শহরে পৌঁছান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনিপিং। চেন্নাই বিমানবন্দরে অবতরণের পরে তাকে স্বাগত জানান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বানোয়ারিলাল পুরোহিত ও মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাতে শি জিনপিং-এর সম্মানে নৈশ ভোজ আয়োজন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসময় অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠকে অংশ নিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরালো করাসহ নানা ইস্যুতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনা করেন মোদি-জিনপিং । একইসঙ্গে এ দুই শীর্ষ নেতা নিজ নিজ দেশে ধর্মীয়, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে সহমত পোষণ করেন। পরবর্তীতে আলোচনার বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে। তিনি জানান, নির্ধারিত সূচির বাইরেও বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেছেন দুই নেতা। বিশেষ করে বাণিজ্য ঘাটতি ও ভারসাম্যহীন বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেন তারা। গোখলে আরও জানান, অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের চমৎকার আয়োজনের জন্য তামিলনাড়ু সরকারের প্রশংসা করেন দুই নেতা। চেন্নাই বিমানবন্দরে পাওয়া অভ্যর্থনায় আপ্লুত হওয়ার কথা মোদিকে জানিয়েছেন জিনপিং। এছাড়া দুই নেতার আলোচনায় পল্লভা ও চোলা সাম্রাজ্যের আমলে তামিলনাড়ু ও চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় শহর কুয়ানঝোও-এর মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে। চীনের ওই শহরে সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া ১২’শ শতাব্দীর এক মন্দিরে তামিল ব্যবসায়ীদের নির্মাণের ছাপ পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় আরও অনুসন্ধান চালাতে একমত হন জিনিপং-মোদি।