মোদির ডাকে ভারতে ‘জনতা কারফিউ’ শুরু

image

জনতা কারফিউ চলাকালে ভারতজুড়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনডিটিভি, রয়টার্স। বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ভারতজুড়ে ১৪ ঘণ্টার ‘জনতা কারফিউ’ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে ২২ মার্চ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ কারফিউ রাত ৯টা পর্যন্ত চলার কথা। জনতা এ কারফিউ চলাকালে দেশটিজুড়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনডিটিভি, রয়টার্স।

দেশটির এ সংবাদ মাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া পরিসংখ্যানের হিসাব মতে, রোববার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৩৩২ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ও এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে ১৪ ঘণ্টার জনতা কারফিউ পালনের আহ্বান জানিয়ে এ সময় নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করার অনুরোধ জানান।

এ কারফিউ পালনের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের সক্ষমতা যাচাই হবে বলে অভিমত তার। তিনি বলেছেন, ‘বহু মানুষকে আইসোলেশনে রেখে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। আমাদের সবার উচিত সতর্ক থাকা। আপনারা এ দিক সে দিক ঘুরে বেড়াবেন, আর করোনা থেকে বাঁচবেন, এটি সম্ভব নয়।’

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কারফিউ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে এক টুইটার বার্তায় মোদি বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই এই কারফিউয়ে অংশ নেই। এটি কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ বিপদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অপরিমেয় শক্তি যোগ করবে। যে পদক্ষেপ এখন আমরা নিয়েছি তা আগামী সময়ে কাজে লাগবে।’ এ দিন বিকেল ৫টায় কারফিউ পালনরত নাগরিকদের নিজেদের দরজায়, জানালায় অথবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে অন্যের সেবা যারা করছেন তাদের জন্য ৫ মিনিট হাততালি, থালা, ঘণ্টা বাজিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করারও আহ্বান জানান তিনি। কারফিউ চলাকালীন রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে যেতেও মানা করার পাশাপাশি যে সব সার্জারি একান্ত জরুরি নয়-সেগুলোর তারিখ পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। অপরদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, ১৪ ঘণ্টা জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে জড়িত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো ছাড়া দেশজুড়ে অন্য সব কিছুই বন্ধ থাকবে।

এ সময় ভারতজুড়ে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও আগে থেকেই চলতে থাকা ট্রেনগুলো বন্ধ করা হবে না। এবং সেগুলোর চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির রেলওয়ে বিভাগ। এর পাশাপাশি দেশজুড়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি এয়ারলাইনস সীমিত ফ্লাইট চালাবে বা বাতিল করবে বলে জানিয়েছে। ২১ মার্চ শনিবার পশ্চিমবঙ্গ ও পুনেতে একজন পুরুষ ও একজন নারীর করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। তাদের দু’জনের কেউই বিদেশ ভ্রমণের কোন ইতিহাস না থাকায় ভারতে কোভিড-১৯ রোগটি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।