মোদির নিরাপত্তা বাজেট ৬০০ কোটি ছুঁয়েছে

image

দেশের আর্থিক দোলাচলের মধ্যেই ভারতের নতুন বাজেট ঘোষণা করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার ঘোষিত এ বাজেটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষায় নিয়োজিত স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫৪০ কোটি রুপি থেকে প্রায় ৬০০ কোটি রুপি করা হয়েছে। এনডিটিভি। দেশটির প্রধানমন্ত্রীদের সুরক্ষা দেয়াই এ বাহিনীর কাজ। গতবারের বাজেটে এসপিজির বরাদ্দ ৪২০ কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫৪০ কোটি রুপি করা হয়। সংবাদ মাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমানে তিন হাজার সদস্যের এ শক্তিশালী বাহিনীটি শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই কাজ করছে। এর আগে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও গান্ধী পরিবারের তিন সদস্য সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাকেও সুরক্ষা দিতে এসপিজি নিয়োজিত ছিল। কিন্তু গত নভেম্বরে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার বাহিনীটির নিরাপত্তা দেয়ার নীতিতে পরিবর্তন আনার পর তাদের এসপিজির পাহারা তুলে নেয়া হয়।

এদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, এ পরিবর্তনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্রগুলো গান্ধী পরিবারের বিভিন্ন নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘনকে দায়ী করেছে। এবং এর মধ্যে রাহুল গান্ধী ‘প্রতিদিন একটি নিরাপত্তা নীতি’ লঙ্ঘন করতেন বলে জানিয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের এসপিজি পাহারা আগস্টে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে আরও দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেব গৌড়া ও ভিপি সিংয়ের এসপিজি পাহারাও তুলে নেয়া হয়।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যার এক বছর পর ১৯৮৫ সালে এসপিজি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯১ সালে রাহুল গান্ধীর বাবা ও দেশটির আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীকে হত্যার পর তার পুরো পরিবারকে এসপিজি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়। ১৯৯৯ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার এসপিজির কার্যক্রম পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসীমা রাও, এইচডি দেব গৌড়া ও আইএক গুজরালের এসপিজি সুরক্ষা প্রত্যাহার করে। ২০০৩ সালে বাজপেয়ি সরকার আইন সংশোধন করে ‘অটোমেটিক প্রটেশকশন’র ন্যূন্যতম মেয়াদ ১০ বছর থেকে কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনে এবং এর সঙ্গে একটি ধারা যুক্ত করে প্রতি বছর নীতি পর্যালোচনার সুযোগ রাখে ও হুমকির মাত্রা বিবেচনায় সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধির বিধান করে। গত বছর এসপিজি অ্যাক্ট ফের সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। সংশোধিত অ্যাক্টে শুধু বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের ও তাদের সঙ্গে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের এসপিজি সুরক্ষা দেয়ার কথা বলা হয়। কোন প্রধানমন্ত্রী দফতর ছাড়ার পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত এসপিজি সুরক্ষা পাবেন বলে বিধান করা হয়। অটল বিহারি বাজপেয়ি ২০১৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এসপিজি সুরক্ষার আওতাধীন ছিলেন।