যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হবার জন্য অভিবাসীদের ন্যূনতম বেতন কমালো ব্রিটিশ সরকার

image

যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পূর্বে নির্ধারিত ৩৫,৪০০ পাউন্ড ন্যূনতম বেতন প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মনীতি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পূর্বে ঘোষিত সাধারণ ন্যুন্যতম বেতনকাঠামো থেকে কমিয়ে অভিবাসীদের জন্য ২৫,৬০০ পাউন্ড করা হয়েছিলো। এর কারন হিসেবে উল্লেখ করা হয় ব্রিটিশ সরকার স্বল্প বেতনের অভিবাসী শ্রমিকদের যুক্তরাজ্যে প্রয়োজনীয় অবদান স্বীকার করে নিয়েছে এবং এই প্রেক্ষিতেই বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে কর্মীর অভাব রয়েছে সেখানে যেসব অভিভাসী ২০,৪৮০ পাউন্ডে চাকরি করেন তারাও ছয় বছর পর স্থায়ী বসবাসের এবং নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন। তবে তাদের বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নতুন অস্ট্রেলিয়ান ধাঁচের অভিবাসন ব্যবস্থার অধীনে যথেষ্ট পয়েন্ট পেতে হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে প্রকাশ।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের আপেক্ষিক সম্পদ, লিঙ্গ, জাতিগত বৈচিত্র দ্বারা উপকৃত হয়েছে যুক্তরাজ্য। অভিবাসীরা সুযোগ সুবিধাবঞ্চিত ছিলো এবং বেতনসহ অন্যান্য অভিবাসন বিষয়ক নতুন বিধিবিধানেও এই সমস্যা এখনো রয়েছে।

শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকার কর্মসূচির পরিচালক স্টিভ ভালাদেজ-সাইমন্ডস ন্যূনতম বেতন কাঠামোর পরিবর্তনকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে সুযোগের সাম্যকে উৎসাহিত করার জন্য বা সকলের অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মান জানাতে সর্বশেষ ঘোষিত বিধিবিধান কোনও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে না। তবে কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচার চালানো মাইগ্রেশন ওয়াচ বলেছে, এই পদক্ষেপের ফলে নিয়োগকর্তাদের ব্রিটিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্ররোচনা হ্রাস পাবে। ২০১৫ সালে থেরেসা মে স্বরাষ্ট্রসচিব থাকাকালীন সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নির্ধারিত নেট মাইগ্রেশন সীমাবদ্ধকরণ’ কর্মসূচীর লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসাবে ৩ ৫,৪০০ পাউন্ড ন্যূনতম বেতন চালু হয়েছিল, যা সরকার কখনই অর্জন করতে পারেনি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরি অভিবাসন নিয়ে এই উদ্যোগের পর্যালোচনা করে নেট মাইগ্রেশন টার্গেটের কফিনে শেষ পেরেক বলে উল্লেখ করেছিলো।

উল্লেখ্য, ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য অভিবাসী নেওয়ার জন্য নতুন পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতির কথা ঘোষণা করে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল সম্প্রতি এটি ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অদক্ষ কর্মী যাওয়া কমিয়ে আনাই এ নীতির লক্ষ্য। বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর টানা বিতর্ক চলার পর ব্রিটিশ সরকার অবশেষে ব্রেক্সিট-পরবর্তী অভিবাসন পরিকল্পনার বিবরণ ঘোষণা করে।