যুক্তরাজ্যে ১৫ লাখ ব্রিটিশ হোম কোয়ারেন্টিনে!

image

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন এমন প্রায় ১৫ লাখ নাগরিককে হোম কোয়ারেন্টিনে নেবে যুক্তরাজ্য। কমপক্ষে আগামী ১২ সপ্তাহ তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সরকার। এজন্য প্রয়োজনে আগামী মে মাসের ‘মা দিবস’-এ মায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

করোনা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে ২২ মার্চ রোববার গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কমিউনিটি সেক্রেটারি রবার্ট জেনরিক এবং উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জেনি হ্যারিস। প্রথমেই তিনি করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬৫ জন এবং নিহত হয়েছেন ৪৮ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৬৮৩ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৮১ জনে। এ সময় তিনি জানান, দেশটিতে কমপক্ষে ১৫ লাখ (দেড় মিলিয়ন) নাগরিকদের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে নেবে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এনএইচএস।

তিনি বলেন, এনএইচএস ১৫ লাখ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তাদের চিঠি বা বার্তা (মেসেজ) দেয়া হবে। এই নাগরিকদের নিজ নিজ বাসায় আগামী ১২ সপ্তাহ থাকতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার কমিয়ে আনার মধ্য দিয়ে হাজারও জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা এ নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের দেশ এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে বিশেষ পদক্ষেপ নিতেই হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা মোটেও ভাববেন না যে, মুক্ত বাতাস আপনাকে সংক্রমণ থেকে মুক্তি দেবে।’ এ সময় মানুষদের জীবন বাঁচাতে এনএইচএসকে সহায়তার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান কমিউনিটি সেক্রেটারি রবার্ট জেনরিক। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ১৫ লাখ সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের এ পদক্ষেপের আওতায় আনছি। এদের মধ্যে এমন নাগরিকও আছেন, যারা নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং সাম্প্রতিক সময়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেছেন। তবে এ সময়ে এই নাগরিকেরা ‘একা নন’ বলেও মন্তব্য করেন জেনরিক।

তার মতে, আপনি যদি এই নাগরিকদের মাঝে থাকেন তাহলে নিশ্চিত থাকুন যে, আপনি একা নন। কমপক্ষে ১২ সপ্তাহ তাদের এভাবে থাকতে হবে। এই সময়ে তাদের একটি ফোন নম্বর দেয়া হবে। সেখানে যেকোন জিনিসের প্রয়োজন হলে নাগরিকরা জানাতে পারবেন। এরই মাঝে ভিন্ন কী পদক্ষেপ নেয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা সম্ভাব্য সকল দিক খতিয়ে দেখছি।

তবে যুক্তরাজ্যকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, এ সিদ্ধান্তটি বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে নিতে হবে। আমরা এটুকু জানি ‘সঠিক সময়েই’ সে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।