লাদেনের ছেলে হামজা নিহত!

image

আল-কায়েদার নিহত নেতা ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা বিন লাদেন মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এমনটি বিশ্বাস করে বলে জানিয়েছেন দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বুধবার (৩১ জুলাই) পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তাও এমনটি জানিয়েছেন। রয়টার্স।

বেনামি সূত্রগুলোর তথ্য নিয়ে করা প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, হামজা কোথায় কবে নিহত হয়েছেন তা পরিষ্কার হয়নি। হামজার বয়স প্রায় ৩০ বছর বলে ধারণা করা হয়। প্রকাশিত অডিও ও ভিডিও বার্তায় হামজা যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোতে হামলার ডাক দিয়েছিল। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাংবাদিকরা হামজার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না।” হামজার মৃত্যুর খবর শিগগিরই ঘোষণা করা হবে কি না, তা নিয়েও কোন মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউজ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে অভিযানে হামজার মৃত্যু হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূমিকা ছিল। গত দুই বছরের মধ্যে ওই অভিযানটি চালানো হয় বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির এসব বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের তথ্যানুযায়ী, ২০০১ এর ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার আগে হামজা আফগানিস্তানে তার বাবার পাশেই ছিলেন। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে আক্রমণ চালানো হলে বিন লাদেনসহ আল কায়েদার জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে হামজাও পাকিস্তান চলে যান। পাকিস্তানে ২০১১ সালে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। ওই সময় হামজা ইরানে গৃহবন্দি ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

ওসামা যে বাড়িতে নিহত হন সেখান থেকে পাওয়া নথিপত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ওসামার সহযোগিরা তার ছেলেকে তার বাবার কাছে নিয়ে আসার চেষ্টায় ছিল।

অন্যান্য প্রতিবেদনে তার আফগানিস্তানে, পাকিস্তানে ও সিরিয়ায় অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য জঙ্গিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন হামজা। বিদ্রোহ করার জন্য আরব উপদ্বীপের বাসিন্দাদেরও ডাক দিয়েছিলেন তিনি। চলতি বছর মার্চে সৌদি আরব তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। তাকে আল কায়েদার অন্যতম প্রধান নেতা অভিহিত করে ফেব্রুয়ারিতে তাকে ‘শনাক্ত করা অথবা যে কোন দেশে তার অবস্থান’ বিষয়ে তথ্য দিতে পারলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।