লিবিয়া সংঘর্ষ : ত্রিপোলি ছেড়ে পালাচ্ছে কয়েক হাজার বাসিন্দা

image

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে প্রায় তিন হাজার (২৮০০) বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আর যারা পালাতে পারেনি তারা অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। সেখানে পানি ও বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে দেশটির জেনারেল খলিফা হাফতারের বিদ্রোহী বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) ত্রিপোলির উপকণ্ঠে হামলা শুরু করে। তারা লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সেরাজ সরকারের কাছ থেকে রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে চাইছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সেরাজের অভিযোগ, এমন হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে জেনারেল হাফতার অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছেন। বিদ্রোহী দলগুলো তার সঙ্গে যোগ দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে লিবিয়ার গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং আরও ৮০ জন আহত হয়েছে। যদিও এর আগে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি ছিল বলে জানানো হয়। জেনারেল হাফতার বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের কমপক্ষে ১৪ যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার এ লড়াই তীব্র হওয়ার পর আহত ও বেসামরিক নাগরিকদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দু’ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি দেয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু জেনারেল হাফতার বাহিনী হামলা জারি রেখে তা অমান্য করে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জাতিসংঘের মতে, ত্রিপোলিতে সংঘর্ষের কারণে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাতেও বিঘœ ঘটতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ এ হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘ত্রিপোলির বিরুদ্ধে এ একতরফা লড়াই সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। একইসঙ্গে তা লিবিয়ার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুরু হওয়া সশস্ত্র আন্দোলনের মর্যাদাও ক্ষুণœ করছে।’ লিবিয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশটি থেকে তাদের বাহিনী সরিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান অগ্রাহ্য করে রাজধানীর দিকে এগিয়ে যাওয়া হাফতারের বিদ্রোহী বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান ত্রিপোলির একমাত্র সচল বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করেছে। সোমবারের এ হামলার পর ত্রিপোলির পূর্বাংশের শহরতলীতে অবস্থিত দেশটির একমাত্র সক্রিয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মিটিগা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর পরই সব ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এতে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিমান হামলার জন্য জাতিসংঘ জেনারেল খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনীকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি এ বিমান হামলাকে ‘মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ বর্ণনা করে বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত হাসান সালেমি। জেনারেল হাফতারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনী এলএনএ’র এক মুখপাত্র মিটিগা বিমানবন্দরে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের বাহিনী বিমানবন্দরটিতে শুধু পার্ক করে রাখা একটি মিগ বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, কোন বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্যস্থল করেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। মিটিগা বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়ায় ত্রিপোলির বাসিন্দাদের একমাত্র বিকল্প এখন ২০০ কিলোমিটার পূর্বের মিসরাতা বিমানবন্দর। ত্রিপোলিতে এলএনএ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ত্রিপোলিভিত্তিক প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সেরাজের অনুগত বাহিনীগুলোর মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। লড়াই তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্ব লিবিয়াভিত্তিক এলএনএ জানিয়েছে, গত কয়েকদিনের লড়াইয়ে তাদের ১৯ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং তারা ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলের আরও কাছে পৌঁছেছেন। ত্রিপোলির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের এ লড়াইয়ে তাদের যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকসহ কমপক্ষে ২৫ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করে রাজধানী ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নিতে হামলা শুরু করে হাফতারের নেতৃত্বাধীন এলএনএ বাহিনী।