সৌদি আরবের বিরোধী দলের আত্মপ্রকাশ

image

সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিরোধী দল গঠন করেছে ভিন্নমতাবলম্বীরা। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত সৌদি নাগরিকেরা ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি’ নামে দল গঠনের ঘোষণা দেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এটাই দেশটিতে প্রথম কোনো সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরব একটা নিখুঁত রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিরোধিতার সুযোগ নেই সেখানে। সম্প্রতি ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন-পীড়ন আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিরোধী দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিন এক বিবৃতিতে সদ্য গঠিত সৌদি বিরোধী দলটি জানায়, আমরা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টির ঘোষণা দিচ্ছি, যার লক্ষ্য সৌদি আরবে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা।

নবগঠিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি’র নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত মানবাধিকার কর্মী ইয়াহা আসিরি, শিক্ষাবিদ মাদায়ি আল-রশিদ, গবেষক সাঈদ বিন নাসের আল-গামদি, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত আবদুল্লাহ আলাউদ এবং কানাডায় থাকা ওমর আবদুল আজিজ।

এ বিষয়ে ইয়াহা আসিরি বলেন, “আমাদের দেশ (সৌদি আরব) চরম সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। দেশকে উদ্ধারের লক্ষ্যেই আমরা এই দল গড়ে তুলেছি।“

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতারোহণের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালানো হয়েছে।

এর আগে ২০০৭ ও ২০১১ সালে উপসাগরীয় দেশটিতে রাজনৈতিক দল গঠনের প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাকে রুখে দেয় সৌদি সরকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আরব বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজ পরিবারের সামনে এমন উদ্যোগ একেবারেই দুর্বল মনে হলেও করোনাকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি সৌদি সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।