হংকংয়ে আসছে ‘চীনা স্টাইল’ ইন্টারনেট

image

হংকংয়ে চীন বিরোধী আন্দোলন : ফাইল ছবি

হংকংয়ে ইন্টারনেট সেবায় সেন্সর শুরু করছে চীন, একই সঙ্গে সেখানে সদ্য চালু হওয়া নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে; যা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে তা প্রতিরোধের কথা বলছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সোমবার রাতে প্রকাশ করা চীন সরকারের ১১৬ পৃষ্ঠার এক নথিতে অনলাইন সেন্সরশিপের এই পরিকল্পনার কথা জানা যায়। নথিতে যে কাউকে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার ও নজরদারির ক্ষমতাও পুলিশকে দেওয়ার তথ্যও রয়েছে।

সম্প্রতি চীনের পার্লামেন্ট হংকং-এর বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন পাস করে। বিরোধীরা বলছে, চীন প্রণীত এই আইন দেশটির আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের স্বাধীনতার অবক্ষয় ঘটানোর জন্য তৈরি হয়েছে। তবে বেইজিং বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে আসছে।

নতুন এই জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ফলে এখন সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কেন্দ্রীয় সরকার পতন, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্নের উদ্দেশে বিদেশের সঙ্গে আঁতাতমূলক কাজ শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ এই আইনের আওতায় আসবে বলে নিশ্চয়তা দেয়া হলেও আইনটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ হলে দেখা যায়, এর মাধ্যমে আসলে ১৯৯৭ সালের ‘এক দেশ, দুই নীতি’র চুক্তির আওতায় ৫০ বছরের রুপান্তরকালে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার যে কথা বলা হয়েছিল তার অনেক কিছুতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে হংকংয়ের অধিকার পাওয়ার পর অন্তত ৫০ বছর স্বাধীনতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বেইজিং। হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও চীন কথিত জাতীয় নিরাপত্তার নামে এই আইন করে সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।

হংকংয়ে চীনের নিয়োগ দেয়া নেতা ক্যারি ল্যাম বলেন, হংকং সরকার যথাযথভাবে এই আইনের প্রয়োগ ঘটাবে।

নিরাপত্তা আইনের আওতায় অনলাইনে কোনও তথ্য অযৌক্তিক মনে হলে তা মুছে দিতে বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নির্দেশ না মানলে তাদেরও জেল জরিমানার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আামেরিকার বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিাবাদের মুখে পড়েছে চীন। সোমবার হংকং সরকারের কাছ থেকে ব্যবহাকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে আবেদন পাওয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুক, গুগল, টুইটার কর্তৃপক্ষ।

ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই আইন পুনঃবিবেচনা না করা পর্যন্ত তারা তথ্য সরবরাহ করবে না। হংকং কর্তৃপক্ষের আবেদনে সারা দেবে না বলে জানিয়েছে টুইটার ও গুগলও।

ব্যারিস্টার অ্যানসন ওং উ-ইয়াত সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণত যে ক্ষমতা দেওয়া হয় পুলিশকে, এই আইনের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এই আইন ভীতিকর।