হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের ঐতিহাসিক বিজয়

image

রোববার অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে জয় নিশ্চিতের পর হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি প্রার্থী আংগাস অং-এর সমর্থকদের উল্লাস-সাউথ চায়না মনিং পোস্ট

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা নজিরবিহীন জয় পেয়েছে। ২৪ নভেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, নগরীর ৪৫২টি স্থানীয় পরিষদ আসনের মধ্যে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গণতন্ত্রপন্থি প্রার্থীরা ২৭৮টিতে জয় পেয়েছেন। আর বেইজিংপন্থি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৪২টিতে। ফলে এ অগ্নিপরীক্ষায় গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা বড় ধরনের সফলতা পেয়েছে বলে রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বিবিসি।

এক প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, গত জুনে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর এটাই প্রথম নির্বাচন। এমন অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় ভোট গ্রহণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার অথবা ভোট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও রোববার তেমন কিছু ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটের দিনটি পার হয়। দিনের পর দিন ধরে চলা অস্থিরতা, সরকারবিরোধী প্রতিবাদ ও সংঘর্ষের পর এই নির্বাচনকে সরকারের পক্ষে হংকংবাসীদের সমর্থনের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। হংকং সরকার ও বেইজিংয়ের ধারণা ছিল, এ নির্বাচন তাদের প্রতি তথাকথিত ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ ভোটারদের সমর্থনকে তুলে ধরবে যা বাস্তবে প্রমাণিত হয়নি। এর পরিবর্তে বেইজিংপন্থি উল্লেখযোগ্য কিছু প্রার্থীও তাদের আসন হারিয়েছেন। আসন হারানো এসব প্রার্থীদের মধ্যে বিতর্কিত বেইজিংপন্থি জুনিয়াস হো বলেছেন, ‘স্বর্গ-মর্ত্য ওলটপালট হয়ে গেছে।’ এদিকে এ নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে প্রশাসিনক প্রধান লামের নেতৃত্বের সমালোচনা এবং চলমান বিক্ষোভের প্রতি জন সমর্থনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। হংকংয়ের স্থানীয় পরিষদের কাউন্সিলরদের রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত। তাদের প্রধানত বাস রুট, আবর্জনা পরিষ্কার ইত্যাদি স্থানীয় ইস্যু নিয়েই কাজ করতে হয়। তাই স্বাভাবিক সময়ে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এখানে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায় না। কিন্তু এবার পরিস্থিতি পুরো বিপরীত ছিল। টানা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর প্রথমবারের মতো ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মনোভাব তুলে ধরার সুযোগ পান হংকংবাসী, যা তারা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন। গত কয়েক মাসের মধ্যে রোববারই ছিল প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন, যে দিনটিতে হংকংয়ে কোনো সংঘাত বা সহিংসতা দেখা যায়নি। ভোটের পর হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বলেন, ‘অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখে সন্তুষ্টির সঙ্গে আমি জানাচ্ছি, আজকের নির্বাচনের দিনটিতে আমরা তুলনামূলকভাবে শান্ত ও শান্তির পরিবেশে ছিলাম।’

গণতন্ত্রপন্থিদের এ বিজয় কী পরিবর্তন আনতে পারে

হংকংয়ের এবারের নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থিদের ব্যাপক জয়ের বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে দেখবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রশাসনিক প্রধান ক্যারি লাম। সেখানকার ১৮টি জেলা পরিষদের মধ্যে ১৭টিতেই জয় পেয়েছেন গণতন্ত্রপন্থি প্রার্থীরা। বেইজিংবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম হংকংয়ে কোন নির্বাচন হলো, আর তাতে বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছেন। হংকংয়ে লাম একটি বিতর্কিত প্রত্যর্পণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবার পর থেকে তার বিরোধিতায় বিক্ষোভ শুরু হয়। যা ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠেছে। ভোট গ্রহণের পরদিন সোমবার অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে লাম বলেছেন, নির্বাচনের ফলের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের অসন্তুষ্টি এবং সমাজের গভীরে নিহিত সংকটের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ফলাফলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনবে এবং বিবেচনা করবে।’

হংকংয়ের জন্য এর মানে কী

হংকংয়ের ডিসট্রিক্ট কাউন্সিলরদের খুব সামান্য রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকে। তারা মূলত স্থানীয় ইস্যু, যেমন গণপরিবহনের রুট বা পয়ঃনিষ্কাশনের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করেন। মূলত রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকা বা কম থাকার কারণেই এ নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন আগ্রহ থাকে না। কিন্তু এই কাউন্সিলররাই ১১৭ জন সদস্যকে নির্বাচন করেন, যারা হংকংয়ের প্রধান প্রশাসককে নির্বাচন করার যোগ্যতা সম্পন্ন ১২০০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে যাবেন । যাকে পরে চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিয়ে থাকে। হংকংয়ের এই ব্যাপক বিজয়ের মানে হচ্ছে, এবার ওই ১১৭ জনের সব কজন সদস্যই হতে যাচ্ছেন গনতন্ত্রপন্থী নেতা। ফলে ২০২২ সালে যখন নতুন প্রশাসক নিয়োগের সময় আসবে তখন ওই কমিটিতে নিঃসন্দেহে তাদের অনেক বেশি প্রভাব থাকবে। তবে এ ফলাফলের যে প্রতীকী মানে রয়েছে সেটি হলো, জনগণ এই প্রথম ক্যারি লামের বিষয়ে নিজেদের মতামত জানানোর সুযোগ পেয়েছে। যদিও হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ এবং চীনের সরকার তাদের সবার হয়ত আশা ছিল স্থানীয় নীরব জনতা যারা বিক্ষোভে নামেনি তাদের মতামত সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে।

লেবাননে আগাম নির্বাচনের ডাক

৪ আগস্টের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে লেবানন। রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার জানান দিচ্ছে জনগণ। ভয়াবহ

ইরানে গণতন্ত্র বিরোধী অভ্যুত্থান, বৃটিশ গোয়েন্দা ও ধামাচাপার ইতিবৃত্ত

image

কোভিড-১৯: ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় আইভারমেকটিন

image

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে

image

বেকার ভাতা : নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর ট্রাম্পের

image

আগাম নির্বাচনের ডাক লেবানন প্রধানমন্ত্রীর

image

সীমান্ত বিরোধ : চীনের সঙ্গে ‘যুদ্ধ প্রস্তুতির’ নির্দেশ ভারতীয় সেনাপ্রধানের

image

ভারতে আবারও করোনা সেন্টারে আগুন, ৭ জনের মৃত্যু

image

টানা ১০০ দিন ধরে করোনা মুক্ত নিউজিল্যান্ড

image