হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের পক্ষে আইনে সই করলেন ট্রাম্প

image

মার্কিন আইন প্রণয়নের প্রতিক্রিয়ায় ‘কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ’ হুঁশিয়ারি বেইজিংয়ের

হংকংয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এতে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে একটি প্রস্তাবে (বিলে) স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২৭ নভেম্বর বুধবার কংগ্রেসশনাল ওই বিলটিতে সই করার মধ্য দিয়ে একে আইন হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। ‘দ্য হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি অ্যাক্ট’ নামের ওই আইনে বলা হয়েছে, হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য কি না- তা খতিয়ে দেখবে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়ণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। ওয়াশিংটন যদি হংকংয়ে সরকাবিরোধী বিক্ষোভে গণতন্ত্রপন্থিদের প্রতি এ সমর্থন অব্যাহত রাখে, তাহলে জবাবে ‘কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ’ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে বেইজিং। বিবিসি।

অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটির বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’ নামক এ আইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে হংকংয়ের পর্যাপ্ত স্বায়ত্তশাসন আছে কিনা- বছরে কমপক্ষে একবার সেটি পর্যালোচনা করে দেখার বিধান রাখা হয়েছে। আইনটিতে বলা হয়েছে, ‘হংকং চীনের অংশ, তবে আইনি ও অর্থনৈতিক পদ্ধতির দিক থেকে অনেকটাই আলাদা। হংকংয়ের নাগরিক স্বাধীনতা ও মৌলিক আইন (বেসিক ল) দ্বারা সুরক্ষিত আইনের শাসন চীন ক্ষতিগ্রস্ত করছে কিনা, বার্ষিক পর্যালোচনায় এটি যাচাই করা হবে।’ এছাড়াও এ আইনের অন্য সব বিষয়ে মধ্যে আছে, চীনের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক হংকংয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, অর্থাৎ হংকংয়ের বিশেষ বাণিজ্য মর্যাদা বজায় থাকবে। আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, হংকংয়ে চলমান অহিংস প্রতিবাদে অংশ নেয়ার কারণে গ্রেফতার হলেও মার্কিন ভিসা পেতে হংকংবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন দেয়া উচিত। বুধবার বিলটিতে সই করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট শি (জিনপিং) এবং হংকংয়ের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাবশত’ তিনি বিলটিতে স্বাক্ষর করেছেন। দুই দেশের মধ্যে চলা বাণিজ্য যুদ্ধ শেষ করতে বর্তমানে চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি করার চেষ্টায় রয়েছেন তিনি। ট্রাম্প দ্বিতীয় আরেকটি বিলেও সই করেছেন। তাতে হংকংয়ের পুলিশের কাছে ভিড় নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম বিশেষ করে কাঁদুনে গ্যাস, পেপার স্প্রে, রাবার বুলেট ও স্টেন গান বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প এই বিলে সই করার পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন এই আইনের জবাবে ‘কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে তারা। ‘অশুভ উদ্দেশ্যে’ যুক্তরাষ্ট্র এই আইন করেছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের অন্যতম নেতা জোশুয়া ওয়াং মার্কিন এই আইনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন ‘সব হংকংবাসীর জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।’

যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিশ্বকে ভুল বার্তা দেবে দাবি হংকংয়ের

অপরদিকে হংকংয়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থনে জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের করা আইনে বিশ্ব ভুল বার্তা পাবে দাবি করেছে হংকং। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই আইনের বিরোধিতা করছে তারা। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন যা হংকংয়ে চলমান চীনবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেবে।

প্রসঙ্গত, এক সময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ছয় মাস ধরে বিক্ষোভ চললেও সম্প্রতি হংকং-এর গণতন্ত্রপন্থিদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৮ নভেম্বর ভোর থেকেই হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। এক পর্যায়ে ব্যারিকেডের পেছন থেকে পুলিশের দিকে পেট্রল বোমা ও তীর ছুড়ে মারে আন্দোলনকারীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বড় ধরনের অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, পুলিশের ওপর হামলা বন্ধ করা না হলে তারা বিক্ষোভরতদের ওপর গুলি ছুড়বে। এমন পরিস্থিতিতেই পার্লামেন্টে বিল এনে হংকং-এর বাসিন্দাদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় জুনে হংকংয়ের প্রতিবাদ বিক্ষোভের প্রথমদিকে বিলটি প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে তোলা হয়। গত মাসে বড় ধরনের সমর্থনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি অনুমোদিত হয়। চলতি মাসে উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্যরাও বিলটিতে সর্বসম্মত সমর্থন দেয়। কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ায় বিলটিতে ট্রাম্প ভেটো দিলেও ভোটের মাধ্যমে তা উল্টে দেয়ার সুযোগ ছিল মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে।