হামলার জবাব দিতে রিয়াদ সক্ষম : বাদশাহ সালমান

image

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার পাল্টা জবাব দেয়ার সক্ষমতা রিয়াদের রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদি এ মন্তব্য করেন। এদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারস্য উপসাগরের উত্তরের শেষ প্রান্ত থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিবিসি নিউজ দেয়া সক্ষাৎকার মার্কিন কর্মকর্তারা এ দাবি করেন। রয়টার্স, আল জাজিরা।

মঙ্গলবার বাদশাহ সালমান বলেন, মন্ত্রিসভা আরামকোর স্থাপনায় হামলার ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন এ হামলাকারীদের মোকাবিলা করেন। ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর রিয়াদের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। এছাড়াও স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে হামলার নেপথ্যে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হাজির করেছে যুক্তরাষ্ট্রের। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী সশস্ত্রগোষ্ঠী হাউথি এ হামলার দায় স্বীকার করলেও সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই হামলার পেছনে ইরান জড়িত বলে দাবি করে আসছে। যদিও তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে সেই স্থানগুলো চিহ্নিত করার দাবি করে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষিণমুখী করে মোতায়েন করায় এটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরোধ করতে পারেনি। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা আঘাত ও লক্ষ্যবস্তুর ১৯টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যা হাউথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা নয়, সৌদি তেল স্থাপনার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক। কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই হামলাটি উত্তর উপসাগর, ইরান বা ইরাকের কোন ঘাঁটি থেকে চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও ইরাক তাদের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবে আক্রমণের খবর অস্বীকার করেছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এই হামলাকে ‘ইয়েমেনি জনগণের’ একটি পারস্পরিক কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার শিকার আরামকো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি। বিশ্ববাজারে মোট তেল উৎপাদনের ১০ শতাংশের যোগানদাতা তারা। হামলার পরদিন এক বিবৃতিতে আরামকো জানিয়েছিল, অগ্নিকা-ে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে দেশের দৈনিক তেল উৎপাদন ৫৭ লাখ ব্যারেল হ্রাস পাবে। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের পাঁচ শতাংশেরও বেশি। সৌদি থেকে তেল সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সৌদি-ইয়েমেন দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পায় ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ওই বছরের মার্চে হাউথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ নেয় ও প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। এর পরপরই সৌদি ও তার মিত্ররা ইয়েমেনে বিমানহামলা চালায়। জাতিসংঘের হিসাবমতে, সেই থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনের ৭ হাজার ২৯০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বর্তমানে দেশটির ৮০ ভাগ জনগণেরই নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। সেখানকার অন্তত এক কোটি মানুষ জীবনধারণের জন্য সম্পূর্ণভাবে খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।