১১৮ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙল দিল্লি

image

১১৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে ২৮ ডিসেম্বর শনিবার ভারতের রাজধানী দিল্লির তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এবিপি আনন্দ এ তথ্য জানিয়েছে।

মৌসুমের সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাঁপছে নয়াদিল্লি। ১৯০১ সালের পর ডিসেম্বরে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে দিল্লিতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ১৫০ মিটারের নিচে নেমে গেছে। একইসঙ্গে চলমান শৈত্যপ্রবাহ আগামী আরও দু’দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৩১ ডিসেম্বর থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সে সময় একটি পশ্চিমা ঝড় আঘাত হানতে পারে। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে শিলা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দিল্লির বাতাসের মানের কিছুটা উন্নতি হবে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিল্লির তাপমাত্রা ক্রমাগত কমছে। মূলত ১৪ ডিসেম্বরের পর তাপমাত্রা কমার প্রবণতা শুরু হয়। এতে রেল ও আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।

লাদাখে মাইনাস ৩১.৫ ডিগ্রি

এদিকে ভারতের লাদাখে মাইনাস ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা এ মৌসুমে ওই অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়, মাইনাস তাপমাত্রায় পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল এবং শুষ্ক মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকাকেও ছাড়িয়েছে ভারতের কারগিল-লাদাখ। যেখানে অ্যান্টার্কটিকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে লাদাখের তাপমাত্রা মাইনাস ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি। কারগিলের তাপমাত্রা মাইনাস ২৭ ডিগ্রি। জম্মু-কাশ্মীরের অবস্থাও হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু। শুক্রবার শ্রীনগরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি। আর পহেলগামের নামে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মেঘ কাটতেই জাঁকিয়ে শীত পড়ছে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে। নতুন বছরের শুরুতে রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনাও।

সিকিমে আটকা পড়া ১৫শ’ পর্যটককে উদ্ধার

এদিকে তুষারপাতের কারণে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিকিম ভ্রমণে গিয়ে আটকা পড়া ১৫শ’র বেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভ্রমণে গিয়ে আটকা পড়া দেড় হাজারের বেশি পর্যটককে পূর্ব সিকিমের নাথু লা থেকে উদ্ধার করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তাদের বর্তমানে ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় খাবার ও সেবা। আর আটকা পড়ে যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাদের চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে। তবে ওইসব পর্যটকদের মধ্যে কোন কোন দেশের নাগরিক রয়েছেন প্রাথমিক তা জানা যায়নি। এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংয়ে যাওয়ার সড়কেও ব্যাপক বরফ পড়ছে। বরফের আস্তরণে ঢাকা পড়েছে পিচ। যান চলাচলের উপযোগী করতে একপর্যায়ে সড়ক থেকে বরফ পরিষ্কার করা হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।